Saturday, 17 September 2022

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা --

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা --

পাখিদের গণসংগীত

সূর্যের দিকে পিঠ পালটানোর মুহূর্তে 
দুষ্টু আত্মারা তোমাকে ছেড়ে চলে যায় 
কারণ,ওই মুহূর্তে পাখিরা গান গেয়ে ওঠে। 

দুনিয়া-কাঁপানো সেইসব গণসংগীত
বুকের ভিতর একটা নদীর জন্ম দেয়,  
যার শরীরটা শুধু , পাহাড় ভাঙা-ঘাম 
আর, আকাশ দিয়ে তৈরি  

এবং এইসব কারণেই বোধহয়, 
সমুদ্রগুলো নোনতা আর,নীল-
রঙের হয়ে ওঠে 

বারোমাস যাদের সমুদ্রেই নাওয়া-
খাওয়া , তারাই এইসব তত্ত্বতালাশ 
মেঘের এনভেলাপে ভরে উপকূলবর্তী-
অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়, যা এঁদো ডোবা-
আর,খালবিলগুলোকে ক্রমশ
আকাশমনা করে তুলতে চায় । 

বুকের খোয়াইয়ের অজন্তা-ইলোরায় কান 
পাতলেই,পালতোলা জাহাজের দাঁড়ের শব্দে 
ভাটিয়ালি ঝুমুর বাউল...এমনকী, 
রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দের  সঙ্গে ফ্যান-ভাতের 
গন্ধও খা-খা  মরুভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে 

আর, ঘুমন্ত রাজকন্যার কপালে
একঝলক বাদলাহাওয়া-র 
ছোঁয়ায় যেন কাড়া-নাকড়া 
ঢোল-ডগড় একসঙ্গে বেজে 
উঠলেই, প্রথম কান্নার দিনটার
 মতো সবকিছু মরূদ্যান হয়ে ওঠে 


ব্ল্যাকহোল-প্রসঙ্গে 


সেফটিপিনের সঙ্গে যে-সমস্ত 
জামা ও জুতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক  
তারা হাসলেই, পৃথিবী জুড়ে 
ভাতের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে 

আসলে,এইসব হাসির ভিতরে  
যে-দুধগন্ধ মিশে থাকে,তার 
কোনো বিকল্পই নেই একমাত্র, 
ভাতের গন্ধ ছাড়া 

একটা ডানার আশ্রয়ে সব-হারাদের 
ইচ্ছেগুলো খুব মিলমিশে থাকলেও,
কখনো-কখনো বাতাসে ধান-গন্ধ
আঁকার ইচ্ছায় বারুদের গন্ধকেও
ভীষণ নিজের করে নিতে  হয় 

একমুঠো শান্তির জন্য 
যুদ্ধ অত্যন্ত জরুরি বলেই
সেফটিপিন সম্পর্কিত জামা 
এবং জুতোরা ফসলের মুখ 
চেয়ে দীর্ঘজীবন হা-ভাতেই
থেকে যায়
 
ব্ল্যাকহোলের অন্ধকারেও 
তামাটে বলিরেখায় জং-
খাওয়া সেফটিপিন, 
বুকের হাড়-পাঁজরা বজ্রের হাতুড়ি- 
শাবল দিয়ে কখনো কখনো 
বিশ্বাসঘাতক হাওয়ায়-চপ্পলদের 
ডেথ-সার্টিফিকেট লেখে

অবশ্য,পৃথিবীর ধূলো-বালি মেখে 
যারা বড়ো হয় একমাত্র,তাঁরাই 
ব্ল্যাকহোল-প্রসঙ্গে হেরাক্লিস 
হয়ে ওঠে  


ডানাগুলো উদ্বাস্তু আর,ঝগড়াটে হয়ে উঠছে 


রসাতল থেকে পৃথিবীটা আবারও 
রসালো চমচমের মত ফিরে আসবে 
কিনা,সে-বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে 

কিন্তু, নিরাশাবাদের মধ্যেই তো
মায়াদেবীর কোল জুড়ে জন্ম নেয়
 মুশকিলআসান বুদ্ধদেব 


এমকী,আমরাও আত্মীয়স্বজনের লাশ 
পাশ কাটিয়ে একটা ঘামগন্ধ-মাখা নুন 
ইভিনিং নাইট-শো-র কিউতে গিয়ে 
আবারো ' লাইন দি-ই '

যদিও,এই আশ্চর্য চুম্বক-ক্ষেত্র তৈরির  
সময় হোমোস্যাপিয়েন্সদের অপেক্ষায়
কিছুই আটকে থাকেনি ফলে, রসাতল 
থেকে তুলে আনার জন্যও যে তাদেরকে
 বা,তাদের সবাইকে দরকার হবে তার 
কোনো মানেই নেই

বরং, ভরা গাজন নষ্ট করার জন্য 
এক শ্রেণির হোমোদের বেশ সুনাম 
আছে নাহলে, ঘর-দুয়ার নাড়ি-নক্ষত্র 
ঝলসে যাচ্ছে দেখেও ,তারা 
বারবার খাণ্ডবদাহনে মেতে 
উঠতো না 

পৃথিবীর এইসব শরীর খারাপের সিমটম
লেখা থাকে কাঁটাতারের বেড়ায় বিলুপ্ত-
প্রায় ডানার শায়েরীতে

মাথাগোঁজার লড়াইয়ে দিন-দিন
উড়তে না-পারা ডানাগুলো এতটাই 
উদ্বাস্তু আর,ঝগড়াটে হয়ে উঠছে যে 
তাদের বুকের ভিতর থেকে পদ্ম টাঁটি-র 
বদলে শুধুই, বিষাক্ত হুল বেরিয়ে আসে 
এবং মা-মেরিকেও যা রক্তাক্ত করে তোলে

Sunday, 11 September 2022

পুষ্পকীট-- ডা. অরুণ চট্টোপাধ্যায়


পুষ্পকীট--

অরুণ চট্টোপাধ্যায়


ফুলের মধ্যে লুকিয়ে থাকি

গন্ধে নিই ভাগ,

পাপড়ি খেয়ে বেঁচে থাকি

ফুলেই করি দাগ।

ফুলের হৃদয় কুরছি যখন

গভীর গোপন প্রান্ত,

লুকিয়ে ব্যথা নিজের ভেতর

ফুল থেকে যায় শান্ত।

সুন্দর ফুল কুৎসিত করি

অকালে ঝরাই ফুলকে

প্রশ্ন করে না একটিও ফুল

ঝরে যায় এক পলকে।


Saturday, 10 September 2022

সম্পাদক সমীপেষু--

সম্পাদক সমীপেষু--
এক কবি কবিতা খুঁজে ফিরছিল। একটা ঝর্ণা দেখতে পেয়ে সে কবিতা লিখতে বসল। সে লিখল, যেখানে পাহাড় পর্বত জঙ্গলের কথা উঠে আসে, উঠে আসে আকাশ সূর্য চ্ন্দ্র তারা ও রোদ্দুর কিরণ, আরো কত কিছুর কথা ! কথায় বলে, যেখানে পৌঁছায় না রবি, সেখানে পৌঁছায় কবি। আসলে কবির কল্পনা সীমাহীন। সেখানে সাপ নিয়ে লিখতে গিয়ে নাভি ছিদ্র উঠে আসতে পারে। প্রেমের খেলার সঙ্গে জীবনের আনুষঙ্গিক অনেক কিছু উঠে আসে।
প্রেমের সঙ্গে বিরহ মিলেমিশে একটা জীবন তৈরি হয়। প্রেমিক প্রেমিকার ভাব ভাবনার ভেতর দিয়ে প্রকৃতি জেগে ওঠে। এমন কি ঋতু পরিবর্তিত হয়ে চলে। 
কখনও প্রকৃতিকে পাল্টাবার চেষ্টায় অকাল বসন্তর সৃষ্টি হয়--সেখানে বুঝি প্রেমের নিষ্কাম খোসা ছাড়িয়ে লাল পানীয়ে নিয়ন আলোক প্রসাধন ফুটে ওঠে।
ভালবাসতে গেলে ভালো লাগতে হয় নতুবা ঘৃণা জন্ম নিতে পারে। এরপর সব কিছু পার করে কবির কলমে উঠে আসতে পারে ঘৃণার কবিতা।
কখনো কবিতার ছলে তোমার বুকে গেঁথে যেতে পারে রক্তাক্ত ছুরির ফলক। কলমের রক্তে প্রেমের নিশানে এক প্রেমিক অনায়াসে নিজের রক্তে লিখে দিতে পারে প্রেমের কবিতা।
যাই হোক, আনুরোধ, আমাদের পত্রিকা স্বরধ্বনি পড়ুন। আশা করবো, আমাদের বৈচিত্র্য ভাব ভাবনার কবিতা আপনার মনকে উদ্বেলিত করবে। ধন্যবাদ -- তাপসকিরণ রায়

প্রতিটি মানুষই জীবনকে ভালোবাসে,ভালোবাসে নিজেকে।নিজের প্রিয়জনদের নিয়ে আনন্দের সঙ্গে জীবন কাটাতে চায়।এটা সকলের জন্য সত্য হলেও আবেগ প্রবণ মানুষগুলির প্রত্যাশা থাকে তারও বেশী। এজন্য হয়তো  তারা প্রত্যাশা হিসাবে বাড়তি দুঃখই পায় জীবনে। আবেগ প্রবণতার  কারণে তারা  ভুলে যায়  বাস্তববোধ। তাদের কল্পনার রঙ আর বাস্তবের মেলবন্ধন হয়না কোনমতেই। আবেগের তাড়নায় ভুলে যায় জীবনের সব পথটুকু কুসুমাস্তীর্ণ নয়, জীবনে আনন্দ যেমন আছে,আছে বিষাদ , শোক,দুঃখ।হাসি কান্নার মিলিত সুবাসে গড়ে ওঠা খেলাঘর ভেঙে পড়ার  অপ্রত্যাশিত আঘাতে গভীর অবসাদে আচ্ছন্ন হয়ে পৌঁছায় আত্মবিশ্বাসহীনতার  ছায়া ছায়া জগতে।খুঁজে পেতে চায় অলীক আশ্বাস।জীবন পথে চলতে গিয়ে রাগ,ক্ষোভ,দুঃখ,আনন্দের অনুভূতিগুলো অর্থাৎ প্রক্ষোভ গুলোর সুষ্ঠ বিকাশ সাধন সম্ভব হয়নি,হতে পারতো যদি অন্তরের অবদমিত ইচ্ছে গুলো সৃজনশীলতার পথ ধরে মূর্ত রূপ পেত। শুধু তাই নয় হৃদয় মন্থন করে উঠে আসা  অনুভূতিগুলো প্রকাশের ভাষায় বাঙ্ময় হয়ে ওঠে,আর এভাবেই জন্ম হয় কত কালজয়ী গল্প ,কবিতা,উপন্যাসের। -- সাবিত্রী দাস।

রমা গুপ্তর তিনটি কবিতা --

রমা গুপ্তর তিনটি কবিতা --

অশ্বত্থামার অনুশোচনা

আমি অশ্বত্থামা , দ্রোণপুত্র কৃপির স্নেহের সন্তান,
সপ্ত চিরঞ্জীবির এক চিরঞ্জীবি দৈববলে বলিয়ান।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে আমিই যে শেষ সেনাপতি,
আসুরিক আচরণে আমার আজ এই অধোগতি।
পিতা আর মিত্র দুর্যোধন যবে হলেন যুদ্ধে হত,
প্রতিশোধ স্পৃহা  হলো মনে প্রবল জাগ্ৰত।
জ্বালামুখী হতে নির্গত উষ্ণ তরলের ন্যায় মন,
ক্রুব্ধ আমি পান্ডব বংশের ধ্বংস করিলাম পণ।
ছদ্মবেশে এক রাতে গিয়ে পান্ডব শিবিরে,
ঘুমের মধ্যে বধিলাম দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্রেরে।
ভেবেছিলাম পঞ্চপান্ডবে  করেছি নিধন,
ভুল ভাঙ্গিল যখন সন্মূখে দেখিলাম পান্ডবগণ।
আচম্বিতে বিস্মিত হয়েও সেদিন করেছিলাম নিজেকে সম্বরণ।
ক্রোধিত পান্ডবগণ বলেন গোপনে কেন করিলে দ্রৌপদীর পুত্রনিধন   !
পাষন্ডের মত বলেছি সেদিন  পান্ডব বংশের ধ্বংস করেছি পণ।
বংশের বাতি দিতে তাইতো রাখি  নাই একজন।
উত্তরার গর্ভ সংবাদ শুনে ভীমসেনের মুখে,
রোষের অনলে পুড়ে প্রতিহিংসা জাগে বুকে।
উন্মত্ত হয়ে গর্ভনষ্ট লাগি নিক্ষেপিলাম ব্রহ্মাস্ত্র ,
তাই দেখে পান্ডবগণ হলেন ভীষণ ত্রস্ত।
মোর পিতা আর সখাকে হত্যা করেছিল ছলিয়া,
শোকে তাই একাজ করেছি উন্মত্ত হইয়া।
কৃষ্ণ আসিয়া কহেন ব্রহ্মাস্ত্র ফিরায়ে লও,
ভ্রূণ হত্যা মহাপাপ নিস্তার নাহি পাও।
দুরাচারী কংস,রাবনও করে নাই এ কাজ,
দ্রোণ পুত্র  হয়ে তুমি পিতার রাখিলে না লাজ।
এ মহাপাপ যে ক্ষমারও অযোগ্য,
ব্রহ্মাস্ত্র ফিরায়ে আনি কর ন্যায় কার্য।
ক্ষমা তো চাই নি সেদিন, হয়েছি দম্ভিত,
ক্রোধিত হয়ে কৃষ্ণ করেন দন্ডিত।
কপাল হতে চক্র দ্বারা তুলে নিলেন মোর মণি,
অভিশাপ দিলেন সর্বাঙ্গে ঘা লয়ে বাঁচিয়া থাকিবে তুমি।
পুঁচ রক্ত পড়িবে সদা ,লোকে কাছে নাহি যাবে,
জল যাচি নাহি পাবে আহার না জুটিবে।
সেই হতে আজও আমি ভ্রমিতেছি একা,
ঘৃণা ভরে লোকে দেখে নাহি স্বজনের দেখা।
ব্রহ্মাস্ত্র ফিরাইবার শিক্ষা দেন নাই পিতা,
ফিরাইতে ইচ্ছা হইলেও সেদিন পারি নাই তা।
অর্ধশিক্ষা ছিল মোর সেদিনের ভুল,
অর্ধশিক্ষা ভয়ঙ্কর অহংকারের মূল।
মরিব না অহংকার ছিল মোর মনে,
অমরত্ব দিলেন কৃষ্ণ আজ মরি প্রতিক্ষণে।
কঙ্কালসার দেহ মোর দুর্গন্ধে ভরা,
ন্যুব্জ হয়ে চলি আমি সারা দেহে জরা।
ব্রহ্মাস্ত্রে বিনাশ হয়েছিল উত্তরার গর্ভ সন্তান,
কৃষ্ণ তার পুণ্য বলে পুনঃ সঞ্চারীলেন প্রাণ।
পরবর্তিতে সে সন্তান আসিল ধরনীতে,
পরিক্ষীৎ নামে খ্যাত হলেন মহাভারতে।
শুনিয়া সে সংবাদ শান্তি হলো মনে,
  বন্দিলাম মনে মনে শ্রীকৃষ্ণ চরণে।

সীমাহীন নৈরাজ্যতা

বর্তমানে সংকীর্ণতা আর স্বার্থপরতায় সমাজ জীবন গিয়েছে ভরে,
বিষন্ন আবহে সভ্যতা তাই আজ নিভৃতে গুমরে মরে।
আগ্ৰাসী মনোভাব কেবলই বিধ্বংসে আনন্দ উল্লাস,
বিবেক মানবিকতা দিয়ে বিসর্জন বর্বরতায় বিলাস।
বিষবাষ্পে ভরেছে গগন মলিনতা মনের ঘরে,
স্বার্থসিদ্ধিতে  ব্যস্ত  সবাই চেনেনা আপন পরে।
বিকিয়েছে মনুষত্ব স্তাবকতাই যেন প্রগতির মান,
দস্তুর এখন যোগ্যের অপমান, অযোগ্যের স্তুতিগান। 
বিশ্বাস করে লুকোচুরি খেলা মুখোশের আড়ালে।
মান হুঁশ সব লুপ্ত হয়েছে রাহুর করাল গ্ৰাসে,
সীমাহীন নৈরাজ্যতায় প্রতিবাদ নেই কোনো, মানুষ নীরব ত্রাসে।

বীরবাহু বধ

শোকাগ্ৰস্ত  লঙ্কাপতি    বীরবাহু তরে
বিষাদে নিঃশ্বাস ছাড়ে   বলে ক্ষীণ স্বরে
হে বীর লঙ্কার তুমি        কুলের প্রবর
রাক্ষস কুলেতে জন্ম     প্রতাপ প্রখর।
স্তম্ভিত হয়েছে রাম        মনে খুশি তাই,
তোমার মতন বীর         বুঝি দেখে নাই।
হায় পুত্র বীরবাহু           বাহুবলি কত
হৃদয়েতে বজ্র যেন         হানে ব্যথা শত।

 ওরে  ভগ্নী সূর্পনখা!      তোর অপমানে
ক্রোধান্বিত হয়ে কেন,     গেলাম সে স্থানে!
মতিভ্রম হলো শেষে        ছদ্মবেশ ধরে 
রাম লক্ষ্মী হরণের          পাপ স্পর্শ করে।
অন্তরেতে হাহাকার         নেই পরিসীমা
হৃদি বৃন্তে ফোটা ফুল       স্নেহ মধুরিমা,
কেউ যদি নেয় ছিঁড়ে        রক্ত ক্ষরণেতে
নিস্তেজ হয় যে দেহ          শোক আবহেতে।

যন্ত্রণা অনলে পুড়ে           মরি আমি। যাও
মন্দোদরী, চিত্রাঙ্গদা        কে সান্ত্বনা দাও।
বাক্যহীনা চিত্রাঙ্গদা         বসে পুত্র ধরে
মন্দোদরী গেলে কাছে     বলে সকাতরে,
দিয়েছি সন্তান যবে         লঙ্কেশের কাছে  মনে মনে জানি পুত্র        সুরক্ষিত আছে।
মেনে নিতে পারিনা         যে এই অঘটন,
হৈমপুরী রক্ষা হেতু           বধ মম ধন।

ততক্ষণে সভা মধ্যে         প্রজাদের ভীড়
বীরবাহু বধে সব              বিষণ্ণ গম্ভীর।
লঙ্কাপতি এসেছেন           ধীর পদে অতি,
চিত্রাঙ্গদাকে  বলেন          শান্ত রাখো মতি।
বিভীষণ করেছে যে,         মৈত্রী বৈরী সাথে
লঙ্কা রক্ষা ভার দিই          বীরবাহু হাতে।
মোক্ষম সমরে রক্ষে          প্রাসাদ লঙ্কার 
কুলরত্ন বীরবাহু                রাজ্য অলঙ্কার।

ক্রন্দন করোনা প্রিয়ে        হৈমপুরী ধনি,
সমরেতে জিতেছে সে      বীর চূড়ামণি।
ক্ষিপ্ত কণ্ঠে চিত্রাঙ্গদা        বলেন, রতন
দিয়েছিল দেব মোরে,       রক্ষার্থে যতন
আপনাকে দিই, পাখি       যেমন শাবকে
রাখে লুকিয়ে কোটরে,      বলুন পুত্রকে 
রেখেছেন কোন্ খানে?     প্রজাগনে  রক্ষা
নৃপ ধর্ম। তবে কেন           পেলোনা সুরক্ষা!

পুত্র আমার হায় রে!        বিধির কেমন
বিচার! রাঘব ক্ষুদ্র           নয়  বলে মন,
যাঁর নামে শিলা ভাসে      সমুদ্র  মাঝার
ঈশ্বরীয় হবে কেউ           ঐশ্বর্য অপার।
বশিভূত কপি জাতি        করছে সমর,
মানুষ নয় দেব সে,          নিশ্চিত অমর।
হয় যদি দেবতা সে          ভাগ্যবান মানি,
ভগবান হস্তে বধ             সদা শুভ জানি।

কৌশিক গঙ্গুলির গুচ্ছ কবিতা --

কৌশিক গঙ্গুলির গুচ্ছ কবিতা --

"লজ্জা "

যারা শিশুদের ধর্ষণ করে , ডাইনি অপবাদ দিয়ে অসহায়াদের পুড়িয়ে মারে , 
তাদের কথা শুনতে আমার লজ্জা করে । 
যে সমস্ত নারীরা সংসার ভাঙে , বিষিয়ে দেয় মানুষের মন , 
তাদের কথা ভাবতেও আমার লজ্জা লাগে । 
যে সব পুরুষরা স্বার্থের জন্য বিবেককে ত্যাগ  করে , 
তাদের চোখে দেখতেও আমার লজ্জা হয় । 
যে সমস্ত নেতারা টাকার জন্যে দেশকে বিক্রি করে , 
মিথ্যা প্রতিশ্রুতির  তুফান তোলে , 
তাদের নাম উচ্চারণেও আমার লজ্জা লাগে । 
যারা ধর্ম ও জাত নিয়ে মারামারি , খুনোখুনি করে , 
তাদেরকে মানুষ বলে ভাবতেও আমার লজ্জা করে ? লজ্জা !    এসব মেনে নিতেও আমার লজ্জা লাগে , খুব লজ্জা .... । 

"না কবিতা "

একজন ভালো মানুষ কেন সর্বদাই হেরে যাবে ? একজন প্রভাবশালী কেন সর্বদাই লুটেপুটে খাবে ? একজন চালাক কেন অন্যদের ঠকাবে  ?
 একজন ভিখারী কেন সর্বদাই ভিক্ষে চাইবে? একজন আদর্শবান কেন সর্বদাই অপমানিত হবে? একজন কবি কেন  সম্পাদকদের তোষামোদে মন দেবে ?
একজন সরল মানুষ কেন সংকোচে গুটিয়ে যাবে? একজন বোকালোক কেন সমাজে অবহেলিত থাকবে ?
একজন প্রেমিক কেন প্রেম নিবেদনে দ্বিধা করবে? একজন বালক কেন বড়দের শাসনে চাপে থাকবে?
  একজন স্বাধীন মানুষ কেন প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে ?
একজন মানুষ কেন অন্যদের নিন্দা করবে ,সম্পর্ক  বিষিয়ে দেবে ?
একজনের দুঃখে কেন অন্যরা কাঁদে না?
 একজন অসহায়ের কথা কেন অন্যরা ভাবে না? একজন অন্যজন, অন্যজন একজন ,একজন অন্যজন।

একটি খোলা চিঠি 

 আপনার সঙ্গে দেখা হলেই মাষ্টারমশাই , দেখবেন আমার দুচোখে স্বপ্নের অসুখ । বুঝিনা কিভাবে কাটবে জীবন বেপরোয়া , এই বাউন্ডুলেপনা আগুন ধরায় না শুধু খ্যাপাটে ঝড় উদাসীন মানুষের মতন । তারপর মাষ্টারমশাই কোথায় রাখলেন সেই কাঁটার মুকুট ? দেখুন আমার সঙ্গে ক্রুশকাঠ , ছেঁড়া ট্রাউজারের পকেটে খোলামকুচি । পৃথিবীর অবশিষ্ট প্রতিটি সবুজ প্রান্তরে আমার তাবু খাটানো আর সারা আকাশজুড়েই রাজত্ব , গান গেয়ে বেড়াই গলা খুলে কোনো ব্যাকারণ না মেনে প্রাণের তাগিদে । যাদের বুকের মধ্যে ঘরবাড়ি , যাদের হাসির মধ্যে অজস্র মণিমুক্তো , যারা হৃদয় ছোঁয়া মানুষ - এক পৃথিবী ভালোবাসা ,  মাষ্টারমশাই আমরা তাদের শুধুই তাদের ।      

"তরজা "

রক্তের বদলে মদ , গাছের বদলে ক্যাকটাস  আর নৌকাবিলাস । সত্য এখন বেশ্যাখানায়, রাজনীতির মন্চ্চে , জেলখানার কুঠুরিতে , জ্বলন্ত চুল্লিতে । এখন কাকতারুয়াদের কোনো কাজ নেই , ভারতজুড়ে তরজায় মাতে নেতা - মন্ত্রী- দল- মিডিয়া আর বুদ্ধিজীবিরা । শব্ধসন্ত্রাসে ও ধ্বংসে মাতোয়ারা মৌলবাদ । দুনিয়া গোল্লাতে যাক ,বদমাশেরা দুধে ভাতে থাক , কবির ক্কান্না কেউ না শুনতে পাক , সব মেনে নিতে থাক । / কৌশিক গাঙ্গুলী ।

কবিতা ভেঙে ভেঙে--তাপসকিরণ রায়

কবিতা ভেঙে ভেঙে--তাপসকিরণ রায়


কবিতা ভেঙে ভেঙে একেকটা শব্দ হয়ে যাচ্ছে...কোন কোন শব্দ আবার স্বয়ংসম্পূর্ণ এক একটা কবিতা হয়ে যাচ্ছে।

ভাবনাগুলি অতীতে সরে গেলে কবিকে খুঁজে পাই।

এক উদাসী উদভ্রান্ত কবি দুপুর রোদ্দুরে পথ ভেঙ্গে চলেছে...তার হোঁচট খাওয়া কবিতাগুলি উদ্ধত বিদ্রোহে ফেটে পড়ছে।

এক কবির রাতবিছানায় এক টুকরো জোৎস্নালোক ঠিকরে পড়েছে তাই নিয়ে সে লিখছে প্রেমের কবিতা।

আবার লাল পেগের ছোঁয়ায় জীবনের নষ্ট ভালবাসার প্রলাপ উঠে আসছে কবিতায়--সে তার প্রেমিকার ছায়ায় একগুচ্ছ চুমু সেঁটে দিচ্ছে।

নারী ধর্ষণের ছবি থেকে একটা ধোঁয়াশা কবিতা উঠে আসছে--সেখানকার আশপাশের মোমশিখাগুলি বারবার কেঁপে উঠছে।

সেখানে স্তব্ধতার মাঝে কোন কবিবে সামাল বমি করে যাচ্ছে তার অজীর্ণ খাবার।

প্রেরণা বড়ালের গুচ্ছ কবিতা --

প্রেরণা বড়ালের গুচ্ছ কবিতা --

মৃত সম্পর্ক (গদ্য কবিতা)
----------------------------
কিছু মানুষ  আপ্রাণ চেষ্টা করছে, সম্পর্ক গুলকে ধরে রাখার জন্য।
কিন্ত কি করে ধরে রাখবে?অধিকাংশই তো এখানে পন্য।
ছোট থেকে বড়, আত্মিয় স্বজন,পরিচিত অপরিচিত - আত্ম সম্মানের নামে আত্ম সন্তুষ্টিতে মগ্ন। 
তা সে যেভাবে যে পথেই হোক,হোক না সে নগ্ন। 
কেউ বা করছে না, তারা শরতের মেঘের মত ভেসে বেড়াতে ভালোবাসে।
কিছু উদাস, আনমনা,নির্মোহী,কিছুতেই কিছু না যায় না আসে।
তার ভেতরে ও সম্পর্ক বেঁচে থাকার আপ্রাণ চেষ্টা করছে। 
তবুও কেন যেন ধীরে ধীরে সে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ছে।
আর মৃত সম্পর্ক থেকে- উৎকট দুর্গন্ধ বেরিয়ে আসছে।
কেউ তটস্থ নয় বরং অবলীলায় অদ্ভুত আনন্দে মেতে উঠছে।।
                       
শেষ হল অপেক্ষা
----------------------------
কি গো অবশেষে এলে বুঝি?
শেষ হল অপেক্ষার, আজি।
গুমোটের বন্ধ দরজায়,
কতদিন তোমার আশায়,
কাটিয়াছে দিন আর রাতি।। 

বিন্দু বিন্দু তুমি বরষিলে,
সিক্ত ধরা তোমার সলিলে।
অঙ্কুরিত হল নব প্রান।
গাহিয়া উঠিল সবে গান ।
শিহরণ মনেতে জাগালে।।

অন্তপুর- (গদ্য কবিতা)
-----------------------------
আমার অন্ত পুরে অধিষ্ঠিত প্রিয় তুমি।
আমার ভালবাসা,ভাল -মন্দ, বিশ্বাস- অবিশ্বাস, সবটা মিলে শুধু তুমি আর তুমি।
তবুও তুমি আমায় বেঁধে রাখতে পার না।
ছুটে চলে যাই বাইরে।সেখানে যে সবাই আমাকে ডাকে হাত ছানিতে।
তাদের চাকচিক্য রসেবসে আমি ডুবে যাই।
যদিও জানি মিথ্যে সবটাই। তবুও কিসের টানে যেন বাঁধা পড়ে যাই।
যখন হাপিয়ে উঠি তখন ফিরে আসতে চাই  ।আমি নিশ্চিত অন্ত পুরে পৌছালেই পাব অসীম আনন্দ,চির শান্তি।কেননা সেখানে কেবল  তুমি আর আমি।

শোন রে মন
-----------------------------
এ দুই দিনের কায়া।
জান, সব   কিছুই মায়া ধরাতলে।
রহ  গো  সাবধান, 
হয়ে  এক  মন ,  
ডাক তাঁরে, যে উদ্ধারিবে তোরে।
এক  পাশে  কাজ  থাক।
যত্ন   কর   এখন,
যম কাছে এলে, রাখিবে সেই,
যার নামে চেতনা জাগে রে।  
           

Friday, 9 September 2022

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছকবিতা --

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছকবিতা --

নিষিদ্ধ প্রেম

কাশফুলে সাদা বন,সাদা মেঘে উড়ু মন 
পাখিদের ডাকে সাড়া, পদ্ম দীঘি মন কাড়া,
তোমাকে পাবার রণ, এ পথেই লোকজন।

যাই ছুটে অভিসারে তুমি তুমি মন করে
 নিষিদ্ধ প্রেমের গন্ধ অভিসারী পথ বন্ধ 
লাজুক লাজুক চোখে বুকেতে কম্পন ধরে।

ছাতনা তলায় মেঘ,সামিয়ানা টানে একা,
মন জুড়ে সুখবৃষ্টি হবে আজ শুভদৃষ্টি ,
প্রথম পরশে রাঙা কপোলের ওষ্ঠরেখা।

 নবরাগে গাঁথা স্মৃতি ভুল করে রতি পতি 
রাধা কৃষ্ণ মানে হার জীবনের ছিন্নতার 
বারবার আকর্ষণে নিষিদ্ধ প্রেমের গতি।।


আষাঢ়


এআষাঢ়ে বৃষ্টিভেজা চোখে চেয়ে থাকি দূরে,
শহরের হাহাকার, চারিদিকে ব্যাভিচার,
ট্রেন ছোটে প্রতিদিন, দূর দূর বহুদূরে,


এ আষাঢ়ে এক পেট ক্ষিদে,ঘুম নেই চোখে,
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দানা বাঁধে, পড়ে যায় নানা ফাঁদে,
মিথ্যে স্বপ্ন বুনি মনে, ভিটে মাটি পথ রোখে।

বিষ মিশে গেছে আজ, শহরের মাটি জুড়ে।
বেকারের বেকারত্ব,নেই কোনো বোধিসত্ত্ব।
দেহ রোগ ছেড়ে আজ, মনোরোগ মন ফুঁড়ে।

খালিপেটে বেকারের প্রেম বৃষ্টি ভিজে ছোটে,
ভাসাই সুখের স্বপ্ন, মাতৃভূমি প্রেম রত্ন,
এ আষাঢ়ে বৃষ্টি নামে,প্রেয়সীর  ভুখা ঠোঁটে।


যাযাবর


 আধুনিক রীতিনীতি পালটেছে গতিবিধি,
 সকলেই ছুটে যায় বিদেশের দরজায়,
 পরবেশে সুখ পায় জন্মভূমি নিরবধি ।

মাতৃ শক্তি মহামায়া ধরেছেন রক্তকায়া 
রক্তবস্ত্র পরিহিতা যাযাবরে সমাহিতা 
ভুলে গিয়ে দেশ ধর্ম রপ্ত করি পরছায়া।

পরভাষা করে রপ্ত বিদেশে হয় আসক্ত,
 সোনালী সোনার ধান বুলবুলি কেড়ে খান,
 তবু বলি ঘরে থাকো মাথা ঠুকে হই ভক্ত।

 যাযাবরে মান বাড়ে যাযাবর মন কাড়ে,
 যাযাবরে মন তাই সকলেই হাই ফাই
সপ্তডিঙ্গা তাই ছাড়ে ঠেকে যেন স্বর্গ পাড়ে।।

সম্পর্ক 

সম্পর্কের বেড়াজালে বাধা আছে ঘরে ঘরে,
সকলেই অভিনেত্রী সময়ের অভিযাত্রী,
 ভবসাগরের রঙ্গমঞ্চে রঙ্গ শেষে ফেরে।

বিশ্বাসে ভালোবাসায় মধুচন্দ্রিমায় যায়,
 সন্তানের জন্য সুখ, সন্তানের কষ্টে দুঃখ,
 
 পিতামাতার ঋণ শোধে, থাকে নিজ বোধে,
স্বার্থপর বাবা-মাও সন্তানের কষ্টচায় ,।

ব্রিলিয়ান্ট রাজা স্বর্ণ মুকুরে নিজেকে দেখে
জিততেই হবে বিশ্ব সবাইকে করে নিঃস্ব 
আঁধারে বাধা প্রতিবাদ, সবার ভাগ্য লেখে।

 বাজারের ব্যাগ হাতে রাজা শপিংমলে যায়,
তারপর ঝোলা ভরে,রাজা কিনে ফেরে ঘরে,
 ল্যাপটপে যোগ করে রাজাদের যান প্রাণ

সব দেশ কিনে নিয়ে বসে থাকে চুপচাপ,
একাই এক রাক্ষস খেয়ে ফেলে খোক্ষস ,
খোক্ষসবোকা বেচে ফেলে চৈতন্য টুপটাপ।।

সম্পর্কের আয়নায় গিন্নির মুখ ফ্যাকাশে ,
গরীব ননদ দুষ্ট ,ধনী বৌদি হৃষ্টপুষ্ট ,
গিন্নির চোখের তারায় দুটি মুখই ভাসে ,
সম্পর্কের বেসামাল টালে, সামাল সামাল।

ঝুলনা

শ্রাবণের আকাশ ছাতিম ফুলের মাথায়,
আবছা জলছাপে আঁকা ফুলের পাপড়ি,
নীচে আবছা আলোয় অভিমানী আমি।

তোমার মনে এখন আমি না, অন্য কেউ!
কদম বনে দোলা বেঁধে এখন নতুন ঝুলনা,
বিন্দু বিন্দু জলের শিহরণে রোমাঞ্চিত তুমি।

দূরে আমি একাকী,যন্ত্রনার প্রহর কাটাই,
তুমি আরসে,সে আর তুমি কদমের ঝুলনা
ঝুলনা বড়ো জোরে জোরে দুলে ওঠে।

ডুকরে কেঁদে উঠি, ছাতিম বনে একা,
মাথায় বৃষ্টি ফোঁটা পড়ে, নেমে আসে ওষ্ঠে,
চোখের জলের ফোঁটা গাল পেরিয়ে বুকে।

অহেতুক কামনার রঙ ধূসর হয়ে গেছে,
শিহরণ স্পর্শে আকুল দেহে মনে বিরহ,
আকাশ আওয়াজ করে ভেঙে পড়ে।
চোখ বুজে অনুভবে ছুঁয়ে থাকি আমি।।

৬.
প্রহসন

আকাশের তারাগুলি মিটিমিটি চায়।
বিচারের অপেক্ষায় শহীদেরা কাঁদে।
গভীর রাতে গ্রহণ লাগে জাগা চাঁদে।
বিচার চেয়ে শহীদ যারা আজ হায়।

তাদের চোখের জলে বৃষ্টি অগ্নি হয়,
সুযোগ সন্ধানী চুপ, সুযোগ নিয়েই,
বিচারের প্রহসনে খোলে রূপ যেই।
শহীদের অশ্রু জলে বৃষ্টি ঝরা জয়।

না পাওয়ায় যন্ত্রণা,ডুবে যায় ও কে ?
লড়াই করার ক্লান্তি,ক্লান্ত সে পথিক,
জীবনের মলাটের পাতা ছিঁড়ে ফেলি ,
চোখে মুখে রঙ মেখে,সাজায় নিজেকে,
যেন মসকরা করে , বড়ো রসিক।
শত মানুষের পথে,প্রশ্ন আঁখি মেলি।

মেঘবাড়ি

আকাশের গাটি ঘেঁষে আজ করো বাড়ি,
মেঘারঙা শাড়ি ওড়ে ,মেয়ে হাসে খালি,
মেখলা বাড়ি ধোঁয়াতে ঢাকা ঢালে কালি,
সন্ধ্যা তারারা জ্বালিয়ে দীপ  বলে আড়ি।

আঁধারি আলোয় যেন  কে ঘোমটা টানে,
ছায়া পড়ে দীঘি জলে,সে আলতো খোলা,
হাঁসেরা খুনসুটিতে জলে দিচ্ছে দোলা,
মে দিবসের শ্রমিক হাতুড়ি ঘা হানে।

দুচোখের জলে আলো বিকিরণ হয়, 
সমান্তরাল পথেই, হাঁটি হাত ধরে,
ঘর গড়ি বারবার, ভাঙা হয়ে যায়।
শ্রমিকের ভিড়ে মেলে শ্রমের আশ্রয়।
হাতুড়ি ছেনি মসৃণ , থাকে শিল্পী ঘরে,
 যন্ত্র মধ্যে ভেসে ওঠে শ্রমিকেরি জয়।।

অবেলা

আকাশের কপালে টি, গোধূলির বেলা,
কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়া রঙে রঙে মেলা।
সে সময়ে মনে পড়ে তোমার প্রশ্বাসে,
আমার ঘুমন্ত প্রেম, জাগে ভালোবেসে।
নরম গোলাপে প্রেম সুপ্ত পাপড়িতে, 
চুম্বনের শিহরণে হৃদয় জাগাতে।
ভালো করে মুখখানা দেখিনি সেদিনে
অনুভবে ছোঁয়া এক,সে অন্য ব্যঞ্জনে।

যুদ্ধে গেলে বলে গেলে,ফের দেখা হবে,
মিথ্যে প্রতিশ্রুতি হল,বিরহই রবে।
ফিরেছ তুমি গোধূলি আজ সেই বেলা!
 রক্তে ভেজা রাঙা মাটি ডুবন্ত অবেলা।
কফিনের ভেতরের ধোঁয়া আর ধোঁয়া
শব্দ যেন শোনা যায়,গন্ধ যায় ছোঁয়া।

৯.গণপতি

ব্যবসায়  উন্নতির চাইছি আশীষ,
হয় যেন লাভ সব ক্ষণ অহর্নিশ।
মাথায় রাখো তোমার হাতের আশীষ,
সবার মাথায় ধন হোকনা বরিষ ।
সফল হোক বাসনা সবার সকল,
অক্ষয় তৃতীয়া দিন অক্ষয় করুক ,
ছন্দ ফেরাও গতিতে দাও শক্তি বল,
সবার প্রাণ আনন্দে দখল ভরুক।

গণপতি গজানন সিদ্ধিদাতা পতি,
খাতার হিসাব যেন নির্ভুল হয়গো,
তোমার আশীষ দাও আনো শান্তি পথ।
সকলের জীবনের দাও নব গতি,
সরল পথেতে যেন জীবনে পাইগো,
এসো সবার জীবনে,চড়ে জয় রথ।।

অজানা ভয়--সান্ত্বনা চ্যাটার্জি

অজানা ভয়--
সান্ত্বনা চ্যাটার্জি 

ভয়টা তাকে ঘিরে থাকে সকাল দুপুর রাত।
সে এক ছোট্ট মেয়ে,মা নেই তার বাবাও গতো,
যদিও তাকে ঘিরে রাখে দাদা দিদির হাত।
জানেনা কেউ যখনই সে একলা থাকে,
এক কালো মেঘ আসে কাছে, চোখ পাকিয়ে ধমকে তাকে,
খোবলায় তারা নরম শরীর ,নোংরা নখে খিমচে  ধরে,
ভয়ে তার গলার মাঝে
শব্দ কোনও বেডোয় না যে
সেই কালো হাত শাসন করে
ইশারাতেই  বোঝায় তাকে…যদি বলিস কিছু …
মেয়েটা তো বোঝেনা যে 
কেমন করে বলবে কাকে
সেই কালো মেঘ ঘনায় যখন
চেনা মানুষ অচেনা হয়
চোখ দুটো তার পাল্টে যে যায়
নখ গুলো তার নেকড়ের মনে হয়।।

সোমনাথ সাহার --আপনজনের পদাবলি

সোমনাথ সাহার --
আপনজনের পদাবলি

"যদি না থাকত এই জরা-ব্যাধি-মৃত্যুর প্রতাপ জীবনে,
আমিও খুঁজতাম সুখ, যা কিছু সে রমনীয় রুচিকর মনে।"
                                      ( বুদ্ধচরিতম্ , বন্দনা )

বাবা
বাবা আমার স্নিগ্ধ বাতাসের মতন, সমস্ত অনুভব দিয়ে তাকে অনুভব করলে বুঝতে পারি,
আমার ছেলেবেলার পাতায় লেখা আছে সেই সময়ের কথা,
যখন বাবা শীতল চাঁদের মতো শিশির ভেজা পথে দাঁড়িয়ে ছিল সৃষ্টির সিন্ধু বুকে নিয়ে; আমরা তখন স্তব্ধতার খোঁজে রাত্রির বুক চিরে চলে যেতাম কালপুরুষের কাছে।
বাবা আমাদের বিশ্বাস দিয়ে মাটির ঈশ্বর গড়তে শিখিয়ে ছিল।
আজ আমাদের নিবিড় সংযমে স্মৃতিটুকু বেঁচে আছে, আর বাবা মিশে আছে অনন্তের গভীরে।

মা
'মা'-কে নিয়ে বলতে যোগ্যতা লাগে!
যোগ্যতাহীন ব্যর্থতার শীতলতা দিয়ে যা বুঝেছি তা হলো-
মা কে দেখতাম বিকেল হলে থালা ভর্তি সন্ধ্যা সাজিয়ে রাখত; আর আমরা চার ভাইবোন একমুঠো আলো ভাগ করতে শিখতাম মায়ের কাছে।
মায়ের অস্থির মন দিনরাত ছোটাছুটি করতো একলব্যের তীরের মতন।
একই জনমে অনেক বার জন্মেছি আমি, তবুও আমার বুকের ভিতর রয়েগেছে অজস্র চোরা ঋণ।
এপারে যা কিছু সঞ্চয়, তা এপারেই রেখে যাবো, তোমার সাথে নিজেকে মিলিয়ে দেবো বলে।

দাদা
স্বাধীনতা আনবে বলে সেই যে কখন ঘর ছাড়া হলো স্বাধীনতা এসেগেলো দাদা এলোনা।
আমি দেখতাম দাদা প্রতিটা অপমানের পর  ফিরে আসত সাদা কাগজের বুকে।
গোলাপের রাজনীতি দাদা বোঝেনি কোনোদিন তাই তো তুচ্ছ গোলাপ মাড়িয়ে হেঁটে গেছে লজ্জা হরণ নিদ্রালোকে।
দাদা শেষে একটা চিঠিতে লিখেছিল-" ক্ষমতার দরজায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা বারণ"।

দিদি
যতটুকু আমি জানি দিদি কে ওরা বিয়ে করে পশুর মতন কেটে খেয়েছিল।
আর বাকিটুকু মায়ের মুখে নির্জনতার ভিতর রুমাল দিয়ে ছটফটিয়ে কান্না দেখে বুঝতে পারি,
অযত্নে বেড়ে ওঠা শিউলি গাছের শরীর ভর্তি ঘায়ে  কারা যেন শান্তি পাচ্ছে।
দিদির কান্নার জলে আমি আধার হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বুঝতে শিখেছিলাম-
ফুলের গন্ধ ফুরিয়ে গেলে বাতাসও মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।

বোন
বোন একজনকে ভালোবেসে বলেছিল-
"তুমি দেখো মৃত জোনাকিদের পাশে আমি গোলাপ ফুটিয়ে তুলবোই।"
বোনের প্রেম ছিল নির্জন নদীর বিষণ্ণতার মতন, হরিণের চোখে মাধুর্যের মতন।
চোখের সামনে অপেক্ষা করতে করতে বোনটি আমার শ্রুতি হয়ে গেলো,
শ্রুতি হতে হতে স্তব্ধ হয়ে গেলো,
আজ হঠাৎ দেখি স্তব্ধ হতে হতে অশরীরী চুম্বন রেখা ছুঁয়ে ফেলেছে।

কুসুম
আমাদের বুকে দোয়েল নেমে আসলেই আমার ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে কুসুম আসতো।
কুসুমের ঠোঁটে অহংকার ছুঁয়ে আমি জ্যোৎস্না ধরার চেষ্টা করতাম; পারতাম না তলিয়ে যেত ভালোবাসার মতন।
রাত বেশি হলে সংক্ষেপে চাঁদ কে ডাকতাম, অন্ধকারে ঠোঁট ভেজানো কথা বলতাম।
২১ শে ফাল্গুন চাঁদ দেখতে গিয়ে হঠাৎ আমি তোমায় দেখে ফেলেছিলাম।
তার পর আমাদের কিছু কথা তোমার কাছে বন্ধক রেখে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলাম অপেক্ষার আলিঙ্গনে।

                                           ইতি,
                          -------// সোমনাথ সাহা //------


বাইশে শ্রাবণ--শংকর ঘোষ

বাইশে শ্রাবণ--
শংকর ঘোষ

বাইশে শ্রাবণ কবি তোমায় করি যে আমরা স্মরণ,
ছবিতে ফুল চন্দন মালা দিয়ে করি তোমায় বরণ।
দুঃখের এই দিনেতে খুশির জোয়ারে আমরা ভাসি,
তাইতো আমরা জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে ছুটে আসি।
ছড়া কবিতা গান নৃত্যে আমরা এদিন সবাই মাতি,
আমাদের মাথার 'পরে রয়েছে তোমার স্নেহের ছাতি।
হৃদয়ে বড় বেদনা পাই কবি তোমায় দেখিনি বলে,
ব্রিটিশের অত‍্যাচার দেখে তোমার কলম যেত চলে।
তোমার শেষকৃত‍্যতে জোড়াসাঁকোয় লোকের ঢল নামে,
দেশবাসী অশ্রুজলে শ্রদ্ধা জানায় নিজ নিজ ধামে।
আকাশবাণীতে কান রাখলে তোমার কথা মনে পড়ে,
" আকাশবাণী " নামে তোমারই স্মৃতিধ্বজা আকাশে ওড়ে।
রামমোহন রায়কে "ভারতপথিক" বলেছিলে তুমি,
বিশ্বের মানুষ আজো জানায় তোমার পাদপদ্মে চুমি।
আজও বাঙালিরা রাখী পরায় ভাই বোনেদের হাতে,
তুমি রাখী পরালে হিন্দু -মুসলমানএক থাকে যাতে।
চিত্তরঞ্জন দাশকে "দেশবন্ধু" আখ্যা তুমিই দাও,
প্রয়াণ দিবসে কবি আমার হৃদয়ের শ্রদ্ধা নাও।
আজ শান্তিনিকেতনে গেলেই প্রাণে লাগে যে বড় ব‍্যথা,
তোমার নোবেল নেইকো সেথায় কী করে বলি একথা?
শান্তিনিকেতন গেলে পরেও মেলে নাকো শান্তি আজ,
সেখানেও অশান্তির কাদা ছিটাতে পায়না লোকে লাজ।
দুদেশের জাতীয় সঙ্গীত লেখা তোমার অবদান,
আমাদের তরে লিখেছো ছড়া কবিতা নাটক ও গান।
তোমার গানকে পাথেয় করে নিয়েছে অনেকেই আজ,
ট্রেনে ও বাসে গান গেয়ে আয় করাই যে তাদের কাজ।
বাইশে শ্রাবণ কবি তোমার চরণে জানাই প্রণাম,
বিশ্ববাসী কোনোদিন বিস্মৃত হবেনা তোমারই নাম।
১৪২৭ থেকে কাটছে যে জীবন সঙ্গে নিয়ে ত্রাস,
কখন যেন জীবনটা নেয় কেড়ে করোনা ভাইরাস।
করোনা কমে গেলেও জীবন থেকে যায়নি চলে ভয়,
মানব সমাজে দিনদিন বেড়েই চলেছে অবক্ষয়।

স্মৃতির সাঁড়াশী--তূয়া নূর

স্মৃতির সাঁড়াশী--
তূয়া নূর

ফেলে আসা অনেক কথাই আমার মনে পড়ে না,
ছানি পড়া চোখের মতো ঝাপসা হয়ে গেছে। 
টুকরো মেঘের মতো ভাসতে ভাসতে উধাও হয়ে গেছে।
স্মৃতির বুক পকেট হাতড়ে হাতড়ে
খুচরো পয়সা, সিকি-আধুলি কোন কিছুর নাগাল পাই না। 

বার বার বলি, আমার পিছু এসো না অনর্থক!
স্মৃতির খাতায় পামরী পোকার বাস,
আর কিছু নেই সেখানে।
হাত নেড়ে কতোবার বলি, থাক না এসব কথা —অন্যকিছু নিয়ে হোক আলোচনা। 


শৈশবের খেলনার মতো ভুলে যাওয়া কিশোর বয়সের ক্ষোভ,
শিশির কণার মতো রোদে পুড়ে গেছে রাগ। 
কতো কাল দেখা হয় নি সকালের সূর্য ওঠা,
কতোদিন নেয়া হয় নি তালুতে ডলে কচি দূর্বাঘাসের ঘ্রাণ। 

হাত নেড়ে বার বার বলি, 
ওসব আমার কিছুই মনে পড়ে না!
কিছুই মনে পড়ে না! তবু পিছু লেগে থাকে,
অবাধ্যের মতো স্মৃতির সাঁড়াশী চেপে ধরে শ্বাসনালী।

মেরা মহান দেশ--অরুণ কুমার দাঁ

মেরা মহান দেশ--
অরুণ কুমার দাঁ

উচ্ছিষ্টে মন
বেকার যৌবন !

হাততালি দেয় সুখে
পেট পুড়ে যাক ভূখে !

অল্পে যখন খুশি
হুলো-মেনি-পুশি ।

ছড়িয়ে দাও ভাত
খুশিতে খাক কাক  ।

সবাই মিলে ভাগে
কে কতটা আগে  ।

সবাই থাকো চুপ
পুড়তে থাকুক ধূপ !

আমি তো আছি বেশ
মেরা মহান দেশ ।


দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান
পশ্চিমবঙ্গ

প্রেম বনাম বিবাহ--অসিত কুমার পাল

প্রেম বনাম বিবাহ--অসিত কুমার পাল
****************

প্রেম এক আশ্চর্য মাধুর্যরস ।
সে যতটা না বাস্তব, তার চেয়ে
অনেক বেশি কল্পনাপ্রসূত ।
বিবাহিত জীবনে প্রেম থাকে না ।

প্রেম এক অনাবিষ্কৃত চারণভূমি।
প্রাত্যহিকতায় প্রেমের জন্ম হয় না 
অধিকারের গন্ডীর মধ্যে আর যাই হোক,
প্রেম বাস করে না , করতে পারে না ।

প্রেমের গায়ে সামাজিক সীলমোহর
থাকে না , সম্পর্ক নির্ধারনের 
দেওয়াল নেই । প্রেমের পরিণতি
বিবাহ হলে প্রেম বিলুপ্ত হয় ।

প্রেম হলেই ঘর বাঁধতে হবে- 
এমন ভাবনায় যুক্তি নেই ।
 রাধা কৃষ্ণের বিবাহ হলে তাদের 
জীবনে প্রেমের পরিসমাপ্তি ঘট

অসিত কুমার পালের

রানা জামানের দুটি কবিতা--

রানা জামানের দুটি কবিতা--

১।
ব্যস্ত তোমার হৃদয় নিয়ে শরীরের উর্ধ্বে

প্রণয় আত্মিক হলে অবয়ব হয়ে যায় গৌণ
ঈশ্বরিক প্রেম পুরোপুরি তাই
ঈশ্বরে অনেক আকর্ষণ রাখি না দেখে কখনো
কিছুটা ভীতিও কাজ করে হয়তোবা

অদেখা অস্তিত্বে আকর্ষণ থাকে অমোঘ বিশেষ
উত্তর মেরুর টান সঙ্গমের অধিক তরঙ্গ
মনে মনে যাকে আঁকি তাকে আসলে কি দেখি?
অদৃশ্যের প্রেমে মগ্ন থেকে লীন হই ক্যানভাসে সতত

তোমাকে প্রথম দেখে বিমোহিত আমি হয়ে গেছি কবি
তোমাকে পাবার টান ছিলো বাঁধ ভাঙা প্লাবনের
স্পর্শ সুখ পেতে কত না কল্পনা!
শরীরে শরীর বিলীন না হলে কিসের মানবজীবন!

যৌনতার লিপ্সা করতে থাকে রাত্রিনিদ্রা ঊষর সাগর
চিন্তার পরিধি বৃদ্ধি পেয়ে পৌঁছে যাই ছায়াপথে
তখন উধাও শারীরিক লিপ্সা যৌনাঙ্গ দর্শন
পেলব ঠোঁটের স্বাদ জাগে না তো মনে আর

এভাবে একদিন ঠিক ভুলে যাই তোমার প্রকৃত অবয়ব
তোমার চেহারা পর্দা ঢাকা কিনা আসে না চিন্তায়
তোমার হৃদয় পুরোপুরি বোধে আছে জেনে রাখে তুমি
হৃদয় হৃদয় বুঝে হৃদয়ের রগে থাকে অনিবার
আমি ব্যস্ত আছি তোমার হৃদয় নিয়ে শরীরের উর্ধ্বে।

কেউ রবে না যেতে হবে


দুটো দিনের জীবন ঋণের
শেষ ঠিকানা মাটি,
বুঝে সকল ধরে নকল
আঁধার পথে হাঁটি।

ভবের হাসি পরায় ফাঁসি
মজে থাকলে মন্দে,
ফেলে নালায় ছুরি চালায়
সরল পথের ছন্দে।

অসৎ আয়ে চলে বাঁয়ে
পার্থিব সুখটা হাতে,
অলীক সুখে থাকে ঝুকে
নির্ঘুম থাকে রাতে।

কেউ না রবে যেতে হবে
যেখান থেকে শুরু,
হিসাব নিতে হাতে ফিতে
বসা মহান গুরু।

নামাজ রোজা ঋণের বোঝা
হাল্কা করে জেনো,
দ্বীনের রাস্তায় থেকে আস্থায়
কেবল পূণ্য কেনো।

জুটি--অঞ্জন ব্যানার্জ্জি

জুটি--
অঞ্জন ব্যানার্জ্জি

তোমার ঠোঁটে যখন তখন
               তপ্ত লাভার ঢল
তোমার চোখে সময় সময়
              মেঘ থৈ থৈ জল
আমার সঙ্গে ঘরের কোনে
                কখনো খুনসুটি
কখনো আবার তেড়ে আসো
                   হাতে নিয়ে বটি
তোমার কথার তপ্ত রাগে
                    জ্বালাও কাঠি
রাগের চোখে ঝিলিক মারে
                      অগ্নি ভাটি।
তবুও জেনো তোমার আমার জুটি
                        ঘিয়ের মতন খাঁটি 
হবেই ঠোকাঠুকি যেমন থাকে যখন
                             ঘটির পাশে বাটি।

    ্

অসমাপ্ত পদ্যসমগ্র--বিকাশ মন্ডল

অসমাপ্ত পদ্যসমগ্র--
বিকাশ মন্ডল 

১. আঘাতগুলি

একেবারে দুমড়ে মুচড়ে দেয় বলবো না 
নিদ্রাহীন রাত কাটে জেগে জেগে ; কেননা 
আলোয় আলোয় ভরে তুলবার জোর 
তৈরি করে নেয় মন ; বাঁচি ঠিক তারপর

২. তফাত তিলমাত্র 

সুখীদের ঘরে খুব হাসিখুশী ;শুধু 
নাকের ডগায় এক বেয়াড়া আঁচিল
দুঃখীদের মুখগুলি ম্লান বটে , তবে 
অধরের নীচে আছে যথাযথ তিল

৩. এইতো জীবন

ফুল ফোটে টুপটুপ রোজ ঝরে পড়ে 
নত হয়ে কুড়োই একটি - দুটি করে 
ফুটে ঝরে প্রতিদিন, কুড়োই কুড়ায় 
সকালে উঠবে ভেবে রোজ সূর্য ডুবে যায়

৪. মাহাত্মারা

আমাদের চারপাশে দুঃখরাশি, দুখি
সুখও আছে  ; অন্ধকারে যেমন জোনাকি 
দুঃখের কারণ আছে ; ইয়ুঁ তুড়ি মেরে
কারা যেন ভেসে যায় আনন্দ সাগরে 


চঞ্চল সেখুর দুটি কবিতা --

চঞ্চল সেখুর দুটি কবিতা --

একাকী জীবন

সাথী পেয়েও সাথী হারা নিঃসঙ্গ এজীবৎকাল, একাকী জীবনের খুঁজে না পওয়ার মানেগুলি আজ বড় অসহায় ঝরাপাতা সম৷

জীবন চলার গতিতে যেটুকু পেলাম সেও অরোমাঞ্চ স্বাদহীন ধূসরিত বালুচর,

দেশ ছেড়ে বিদেশে, সঙ্গে দিবা স্বপ্নটাই আজ আপন সঙ্গী বলে মনে হয়৷ ভবিষ্য বড় লোভনীয়, শত্রু হয়েছে কিছু অস্ফূট আকাঙ্ক্ষা।

নিদ্রাবিহীন ভিজে নয়ন, জানিনা বিষাক্ত রজনী আর কত কাল কাটবে একা একা।

শৈশব যদি ভালোই ছিল, তাহলে একালের আশায় কেন ছিলাম হয়তো জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে বুঝতে পারিনি এখন কি করার আছে, বুঝ থাকলেও মুহূর্ত শেষ৷


(২)
ভুলতে পারিনি আজও তোমায় 

শুধু তোমার জন্য এ হৃদয় হয়েছে আজ মরু সাহারা 
কালো আঁধার সর্বত্র সর্বহারা হয়ে বেকূলে ভেসে যায়,
শুধু ক্ষীণ চাঁদকে সাক্ষী রেখেছি৷
ভুলতে পারিনি আজও তোমায়....
স্মৃতি গুলি হৃদয়ে বেজে ওঠে সর্বদা ব্যথার ভূমিকম্প হয়ে৷
ম'ন তরী ভেসে চলে 
সে নয় কোন নদী মোর অশ্রু নোনাজলে৷
তোমার একগাল হাসি 
সঙ্গে উত্তপ্ত শ্বাস
আমাকে দিয়েছিলে মধুমিলনের সেরা উপহার ৷

 অসহায় বিড়াল চাহনির মত দেখতাম তোমায়
শত রশ্মির সম লাবন্যময়ী এক নারী৷
 ভুলতে পারিনি আজও  তোমায়.......
 কিবা আছে মোর তোমায় করিব নিবেদন
যদি চাও তবে দিতে পারি ,
শত মালঞ্চ ভরা সুগন্ধ সৌরভ৷

যদি চাও তবে দিতে পারি,
শত প্রেম কবিতার কাব্যভরা রস৷
তাতে না হয় তবে শেষ রক্ত বিন্দু,

আর কতকাল কাঁদাবে তুমি
পর্ণমোচীর মত প্রতীক্ষার পানেচেয়ে
কবে তুমি আসবে ফিরে মোর ম'ন বৃক্ষে৷

ভুলতে পারিনি  আজও তোমায়.....
একটি বার ফিরে এসো সাথী
সব অভিমান ভুলে অপেক্ষায় আছি৷

সমুদ্র সৈকতে গোধূলির অন্তে 
যে রঙীন স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলে তুমি
সেটুকু নিয়ে বেঁচে আছি আজও 
এক জীবন্ত লাশ হয়ে৷

ফিরে এসো সাথী ভুলবুঝে চলে যেয়োনা
ক্ষত হৃদয় একটি বার দেখে যাও 
তোমারি স্বচ্ছ ছবিটায় অবশিষ্ট এখনও,

ফিরে এসো সাথি শেষ নিশ্বাসের আগে
ফিরে এসো....ফিরে এসো.....

ভুলতে পারিনি আজও তোময়........৷


অসংলগ্নতা--মণীন্দ্রনাথ বাগ

অসংলগ্নতা--
মণীন্দ্রনাথ বাগ

এখন সময় হলো দেখার....
দূর থেকে দেখার;
দৃষ্টি শক্তি তার তীক্ষ্ণতা হারিয়েছে
বেশ অনেকটা; তবে স্বপ্নে
যেসব দেখি,তারা অলীক।
অথচ স্বপ্নঘোরের শেষে
যে প্রভাত এলো স্নিগ্ধ বেশে
তাকে জড়িয়ে নিলাম  নিজের সাথে।
কিছুতো নিজের রাখতে চাই
তাদের আদর করতে চাই
নিদেনপক্ষে কটা মিনিট-সেকেন্ড।
পরক্ষণেই মনে হলো,না চাই না;
শুনলে কেউ নবীন,বলবে অসংলগ্নতা।
কেন জানো চাইনা!
যদি হারিয়ে যায় আবারো...তারা।
তার চেয়ে বরং যারা পড়ে আছে বুকে
ওরাতো এখন জীবাশ্ম,খোলস বৈতো না।
ওরা মোটেই ভারী না।অম্ল-মধুর স্মৃতি...
থাক ওরা পাঁজরের মাঝে হৃদপিন্ডে লেগে।

হামিদুল ইসলামের গুচ্ছ কবিতা -- কারসাজির বির্নিমাণ--

হামিদুল ইসলামের গুচ্ছ কবিতা -- 

কারসাজির বির্নিমাণ--                            

এঁদো এঁদো জলজ বিনির্মাণ 
দাবদাহ দুপুর 
শুকনো কলতলা। সব কলতলা যেন প্রিয়ার রোদের ভূবন      ।।

কথার দ্রাঘিমা মুছে ফেলি বারবার 
আস্তিনে গুটিয়ে রাখি স্বপন 
চিলেকোঠায় সাজানো রাত। ভূখাপেটা মানুষের নষ্ট বাসর       ।।

কথার আসর ভাঙে গড়ে 
ক্লান্তি মাখে নীরব জনপদ 
আমাদের পায়ে পায়ে সুদীর্ঘ অমাবস‍্যা। জীবন চড়াই উৎরাই       ।।

আগপাশতলা ঢেকে যায় মায়ায় 
শহীদ মিনারে ক্ষুধার মিছিল 
লাখো পায়ে পিশে যায় সভ‍্যতার বীজ। পিশে যায় কারসাজির বির্নিমাণ        ।।
_______________________________________________________
                            ব‍্যর্থতা বরাবর 

ইউক্রেণে যুদ্ধ 
বারুদ ভর্তি জীবন 
লাশের পাহাড় জমে উঠছে প্রতিদিন। হাঁপাচ্ছে সভ‍্যতা      ।।

আগুন আগুন। আগুনে পুড়ছে দেশ 
পুড়ে যাচ্ছে আকাশ 
মাটি হাওয়া 
পুড়ে যাচ্ছে কবিতার বই। শ্বাসে প্রশ্বাসে জমে উঠছে ধোঁয়া       ।।

ভেঙে পড়ছে চেতনা 
রক্তে ভাসছে নদী 
রাজপথে শকুন চিল 
ছিঁড়ে খাচ্ছে লাশ। লাশফুলে হাহাকার। লাশফুলে জীবনের যন্ত্রণা        ।।

হিসেবের পালা 
লাভ ক্ষতির হিসেব গরমিল 
প্রতিটি রক্ত ফোঁটা ঢেকে দেয় পরাজয়ের গ্লানি আর ব‍্যর্থতা      ।।
________________________________________________________
                            ঈশ্বরহীন মানুষ

দূর থেকে আরো দূরে যাই 
যাওয়া হয় না 
ফিরে আসি। মুছে ফেলি সমস্ত অভিমান      ।।

অলীক বৃষ্টিতে ভিজে যায় প্রাচীন শহর 
বৃষ্টিতে ভিজি 
অস্বস্তিগুলো ভেজে না 
আগুন হয়ে প্রতিদিন ফিরে আসে বারবার      ।।

পুড়ে যাই 
জ্বলে যাই 
চিতার আগুন নেভে না     
পড়ে থাকে ছাই। আমার চিতার জ্বলন্ত ছাই     ।।

সব মানুষই একদিন চিতা। সব মানুষই একদিন ঈশ্বরহীন মানুষ      ।।
______________________________________________________
                                   দুপুর 

জলের ছায়ায় পড়ে আছে একলা দুপুর 
নির্জন ছবিঘর 
দূরে ট্রেণ লাইন। কু ঝিকঝিক    
আধশোয়া রোদে স্টেশন চত্বরে ঘুমিয়ে আছে মন খারাপের স্মৃতিগুলো      ।।

সবার হাতে লোডিং 
পায়ে পায়ে পৃথিবী পরিক্রমা 
আমার পাশ ঘেঁসে এক অচিন যুবতী। ওর খোঁপায় সাজিয়ে রাখি দুপুর      ।।

সব ছায়া নেমে আসে জলে 
দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়ে ওঠে দুপুর 
ময়ূরবনে রুক্ষ দুপুরের হাট। দুপুর খুঁটে খুঁটে খায় আমার অভুক্ত দুটি চোখ      ।।

হারিয়ে যায় যুবতী। হারিয়ে যায় ছায়া 
দুচোখের ফোকর গলে হারাতে চায় দুপুর। কিন্তু কিছুতেই পারে না        ।।
__________

                          আমরা ও আমরা 

ঝুপ ঝুপ অন্ধকার 
তুলসীতলায় জমে ওঠে কুয়াশা 
পোয়াতি গাছে ঢেউ লাগে। অশান্ত হাওয়া      ।।

কারা যেনো মুখোশে ঢাকে মুখ 
হাজার হাজার পরিযায়ী কীট 
প্রতিদিন রাতের আঁধারে নিখোঁজ হয়ে যায়       ।।

বন্দরে বন্দরে সাজাই ফেরি 
নোঙর করি জীবন 
ঈশান কোণে মেঘ। ভিজে যায় আতস কাচের বাসি শহর    ।।

আমরা স্বপ্ন কুড়োই 
চেতনা কুড়োই 
ফেলে আসি জলের বসত। ফেলে আসি প্রাচীন শৈশব      ।।
_______________________________________________________
গ্রাঃ+পোঃ=কুমারগঞ্জ। জেঃ=দক্ষিণ দিনাজপুর। মোঃ+হোঃ=8637316460।
_______________________________________________________

রাজকোঠা-- শক্তিপ্রসাদ ঘোষ

রাজকোঠা
-- শক্তিপ্রসাদ ঘোষ 

চূণসুরকি মাখা ইটের বুকে জড়িয়ে 
গভীর ইতিহাস 
ঝাড়বাতির মোম আলোতে
জ্বলন্ত সুখ আশা ইচ্ছে
অন্ধকারের গহ্বরে স্বর্ণ অলংকারে
ঝনঝনানি শানিত তরবারি
ইঁট বুকের খাতায় লিখে রাখে
ভবিষ্যতের জন্য 
রাজকোঠায় চোখের জলের 
ইতিহাস। 


------- ------- 

দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়ের তিনটি--

দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়ের তিনটি--

রাত ভাসতে থাকে আনন্দে--
 
লুকিয়ে কাঁদলেই
মাকে মনে পড়ে
সেই আঁচলটা.....
জানালা গলে রাতের যে আকাশটা
আমার কাছে এসে দাঁড়ায়
সেও মায়ের মতো চোখের জল মোছায়....
না- পাওয়া কখন যেন গলে গলে গড়িয়ে পড়ে
এঁকেবেঁকে চলে যায়
আমার থেকে অনেক দূরে....
বাইরের বাগানে তখন রজনীগন্ধা ফুটছে
সাদা আনন্দ বাড়িময় ছড়াতে থাকে
একটু একটু করে....

                 ***************


ছিল যেটা না থাকাতেই

হাত বাড়াতে তোমার কুন্ঠা এখন ভাবায়
বৃষ্টি ভেজা ভালোবাসার আলপথ পিচ্ছিল হয়ে উঠলো হঠাৎ?
বাঁশের সাঁকোটা দুলছে
নীচের নদী চেয়ে চেয়ে দেখে
থেকে যাওয়াটা বড়ো ধৈর্য্যের
তোমার স্বপ্নগুলো বড়ো আগুন মাখা ছিল হয়তো
বুঝতে পারিনি
এতোকাল পরে ফেলে আসা বিকেল ডাকলে
মুখ ঘুরিয়ে নিই
গঙ্গার হাওয়ায় কানাকানি উঠলে
সিগারেটটাকে গিলে খেতে ইচ্ছে করে কান্নার মতো
চুপ করে বসে থাকি
শুধু নদীর জল ছলাৎছল বলে
যা যাওয়ার তার জন্য দুঃখ কোরো না
ওটা কখনোই তোমার ছিল না 

             ****************
 দু চোখে যখন প্রেমের কাজল

নীরবতাও এক ধরণের ভালোবাসা। চিৎকার করে বলার প্রয়োজন পড়ে না সে কথার।ভাববাচ্য সারা বাড়িতে আছড়ে পড়লে রজনীগন্ধা হাসে।জানে আকাশের ঐ কালো মেঘ এক আদুল গায়ে নেমে আসবে আজ রাতে। ভাসিয়ে নিয়ে যাবে নতুন কোন আবিস্কৃত দেশে যেখানে ফুলের রেণু মধু হয়ে ঝরে পড়বে সারা গায়। একটা মিষ্টি গন্ধ ছুঁয়ে যাবে আদরমাখা প্রতিটি রোমকূপ।শরীর জুড়ে যে আলোড়ন তার মন্থনে শুধু অমৃত উঠে আসবে ঠোঁট জুড়ে।একে অপরকে শুষে নিতে থাকবে তীব্র উষ্ণতায় হ্যাংলা মেঘের মতো। নেমে আসবে অবশ করা এক আলো। দুচোখ ভরে দেখতে থাকা তখন হাসতে থাকা  তৃপ্ত শরীর।

              **********

স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস--গোবিন্দ মোদক

স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস--
গোবিন্দ মোদক


কোনও এক জলপ্রপাতের ধারে দাঁড়াবো বলে

দু’টি সরলরেখা আঁকি হৃদয় বরাবর, 

অথচ সেগুলি তোমাকে স্পর্শ করে না।

অতলান্ত একবুক দুঃখ সুখকে পোড়ায় ….

পোড়ায় … পোড়ায় … আর পোড়ায়; 

তবু শিলালিপি ছেলে এনেছি যে প্রত্নকথা 

তার আর পাঠোদ্ধার হয় না। 

দু’ডানায় অন্ধকার নিয়ে নেমে আসে আকাশ 

রাত্রি পোড়াবে বলে, 

তবু সকাল হাতছানি দেয় নিদারুণ অনিবার্যতায় 

আর একটা শুকপাখি 

ক্রমাগত গেয়ে চলে জীবনের ধারাভাষ্য;

আমার আর হয়ে ওঠে না প্রপাতের ধারে দাঁড়িয়ে 

সারা গায়ে জলসুখ মেখে নেওয়া, 

কিংবা জল ছপ্ ছপ্ আদিগন্ত হেঁটে যাওয়া!

অতএব মহাকাল রচনা করে চলে 

আর এক স্বপ্নভঙ্গের ইতিহাস

যার প্রথম পাতায় লেখা থাকে –

অতীত বিষয়ক কিছু দুর্বোধ্য শিলালিপি

যার পাঠোদ্ধার কোনদিনও সম্ভব নয়।

============================

কমলিকা মজুমদার--লাইক-ডিসলাইক

কমলিকা মজুমদার--

লাইক-ডিসলাইক

আমাদের সোশালাইট ভালোবাসারা

প্রতি মন খবরে খুঁজে বেড়ায় লাইক,

কিছু হ্যাশ ট্যাগ ঢেকে ফেলতে চায়

প্রেমের দেওয়ালে সাঁটা সব বিজ্ঞাপন।

 

শেয়ার করার ফাঁকে আজকাল

মাঝে মাঝেই শহরে হারিয়ে যায়

মন শেয়ার ও তার অংশীদারেরা।

 

শেয়ার মার্কেটের ওই লাল গ্রাফেরা

টিউটোরিয়ালে শেখাতে চায় প্রেম।

চলে যাবো ফিরে-- প্রদীপ দে


  চলে যাবো ফিরে--
  প্রদীপ দে 

আমিও একদিন চলে যাব
বেড়া ভেঙে ভেঙে, সবেগে
নির্বাক শ্রোতা হয়ে রব
যতই পিছু চেপে ধরো আবেগে।

কত কথা বলা হয়ে গেছে আগে
মোর মনে আজ সেইসব জাগে
আজ আমি তাই থাকি নির্বাক
শ্রোতা হয়ে শ্রবনশক্তি সহজাত থাক!

যদি পারো দূর থেকে কেবলই দেখো
আমার এই ঘরে ফিরে যাওয়া
ভুলে যেও সকল  চাওয়া -পাওয়া
আর সহস্র যোজন দূরে সরে থেকো!
………..

আগমনী সঙ্গীত--বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী

আগমনী সঙ্গীত--
বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী 

শিউলি ফুলের মৃদু সুবাস , বাসন্তী রঙের বৃন্ত
মাটির বুকে , পথের পরে , ঝরছে অবিরত ।
বৃষ্টি আসে মেঘের টানে , ঝিলিক দেয় রোদ্দুর ,
ময়না, টিয়া , বুলবুলি আর দোয়েল পাখির সুর ।
পুব আকাশটা বর্ষাস্নাত , মেঠো হাওয়া মাঠে ,
কাশফুল আর শাপলা ফুলের সমারোহ ঘটে ।
পদ্মদীঘির নিথর জলে চিকণ পাতায় জল ,
স্নিগ্ধ মৃদু হাওয়ায় দোলে পুষ্প শতদল । 
মন কেমনের শরৎ এল , ভরা প্রকৃতির কোল 
স্বপ্নেরা আজ পাখা মেলে তুলছে খুশির বোল ।
মায়ের বোধন , ঢাকের কাঠি , আগমনী গানে
একটু ছোঁয়া , হিমেল পরশ ,লাগছে দোলা প্রাণে।
কোন সুদূরে দিচ্ছে পাড়ি দূর্গা মায়ের সমাবেশ
ছড়িয়ে আছে পূজার চলন দেশের থেকে বিদেশ,
দেবীপক্ষ শুরু হতেই মায়ের পূজার পার্বণী 
মহালয়া দিয়ে তাঁর স্তবমন্ত্র গাথার আবাহনী ।
শ্রীরামচন্দ্র এই শরতে করেন দেবীর অকাল বোধন 
মর্তবাসী তা স্মরণ করে , করেছে পূজার প্রচলন
নীলাম্বরী শাড়ির আঁচল , আকাশ রংয়ের মায়ায়
চলছে পথে হাজার হাজার ভক্ত মায়ের দয়ায় ।
হিন্দু আছে , খ্রীষ্টান আর নানা ধর্মের মানুষ তারা
শারদীয়া দুর্গাপূজায় আজ সবাই আত্মহারা ।
অসুর দলনী মায়ের সঙ্গী লক্ষ্মী -- সরস্বতী ,
কার্তিক আর গনেশ দেন আশীষ সবার প্রতি ।
আনন্দ তাই সবার ঘরে , সাজো সাজো রব ,
মুখরিত আকাশ বাতাস , বেজায় কলরব ।
তূর্য নিনাদ ভূবন জুড়ে চলছে দেবীর কদর
আগমনী সুরে বিভোর , ব্রাহ্মণ দোলায় চামর ।
দশভূজা দূর্গা মায়ের সুসজ্জিত পূজার প্রাঙ্গন
বাঙালীর ঘরে বন্দি ফ্রেমে পূজার গৃহ অঙ্গন ।
স্বজনহারা মানুষ খোঁজে স্বজনের মমতাস্থল ,
দেবী দুর্গা পারেন দিতে তাদের ভরসা বল ।
চারদিনের এই উৎসবে কেউ রবে না ব্রাত্য ,
ভীক্ষুক বা ধনী যারা, লভ্য মায়ের আনুগত্য ।
দুঃখ দুর্দশা , জ্বরা ব্যাধিগ্রস্ত , সবার আছে মা
দেবী দুর্গার আরাধনায় কেউ ত্রুটি করে না ।
উৎসবের মিলন মেলায় আনন্দেরই হাট ,
ঢাকের বাদ্যি কাঁসির ঠেকা , মন্ত্রে পূজাপাঠ ।
শরৎ আসে , বিষাদ কাটে , কি যেন হয় মনে ,
মনের কথা , মনের ব্যাথা , ইচ্ছাময়ীই জানে ।

বৃষ্টিতরু // বদরুদ্দোজা শেখু

বৃষ্টিতরু // বদরুদ্দোজা শেখু
--------------------------------------

আসমান আজ বৃষ্টিতরু, মেহেরবানির ঝর্না
ঢালছে দ্যাখো অকৃপণ হাতে, জাগছে অলোকবর্ণা
বসুন্ধরা অন্ধকারে ক্ষণপ্রভার চমকে
ভূতুড়ে আর ভয়াল ভীষণ বজ্রঘোষের গমকে ।
থমকে' আছে ভাবনাগুলো, ঘরবাড়ি আড়ষ্ট,
মগ্ন বিভোর ঘোর-লাগা মন খুঁজছে অস্পষ্ট
দিগ্বলয়ের প্রান্তরেখা-- দেখা পাওয়া দুঃসাধ্য ,
সেজেছে আজ আপন সাজে আজীবন আরাধ্য
আনন্দময়ী আসল খেলায় বাদল -মেলার ছন্দে, 
দহন শেষে ধূলো-মাটির স্নিগ্ধ সোঁদা গন্ধে
ভ'রে যাচ্ছে বাতাবরণ  অন্তঃকরণ অনুভব,
গাইছে সারা আকাশ বাতাস পরিতোষের স্তব
আপন মনে, উৎসবের বনে লেগেছে আজ বন্যা
নাচছে যেন বৃষ্টিতরু সুন্দরী জলকন্যা
চালাট জুড়ে জগৎ জুড়ে, উড়ে শুধু আনন্দ,
আজ ফেরেস্তা জ্বিন-ইনসান সবার যাওয়া বন্ধ
এই আবহে, হৃদয় কহে-- কবি তুমি আজ থামো হে,
নাচছে দ্যাখো বৃষ্টি-বালা অনেক দিনের বিরহে--
এই বিরহের দহন-জ্বালায় কান্না যেন পায় না
মন-ময়ূরী নাচতেই চায়, অরোধ্য তার বায়না।।

       
***কবি-পরিচিতি

-------------------

বদরুদ্দোজা শেখু-র জন্ম ১৯৫৫ সালে ফেব্রুয়ারীতে মুর্শিদাবাদ জেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামে ।- - - -নেশায় কবিতা লেখালিখি। - - -বিভিন্ন পত্রিকাগোষ্ঠী থেকে একাধিক সম্মাননা পেয়েছেন।- -- - এছাড়া কবি তাঁর "আরো থোড়া দূর" কাব্যগ্রন্থের জন্য  "পদাতিক কবি সুভাষ মুখোপাধ্যায় স্মৃতি পুরষ্কার ২০২০" - অন্যতম "বিশেষ সেরা"  সম্মাননা পেয়েছেন।

তিনি কিছু কিছু অণুগল্প ও ছোটগল্পও লিখেন ।

সৌদামিনী শম্পার দুটি কবিতা --

সৌদামিনী শম্পার দুটি কবিতা --

ঠিকানা

দু চার কলমে যদি জীবনের জলছবি এঁকে ফেলা যেত,
মাছরাঙাদের অপেক্ষা,
একটা খেয়ালী প্রজাপতির রঙীন এলোমেলো উড়াউড়ি,
উড়ণচন্ডী বকের বকবক অথবা গভীর নৈঃশব্দ্য!

দুয়েকটা ঢিল, তরঙ্গ তুলে যায়।
ছোট্ট ছোট্ট ঢেউ ধাক্কা খেয়ে ফিরে আসে কেন্দ্রের দিকে।
রোদ্দুরের রাস্তা বেয়ে যদি স্বপ্ন নাবে,
আমি তাকে তোমার ঠিকানা দিয়ে দেবো!


ঘর


জীবনের দায়।
এতো সহজে কি ছাড়া যায়?
ক্লান্ত বিকেল বলাকার পাখায় ভর করে,
সন্ধ্যা নামলে পর,
পথহারা পথিকও কোণ চায়!

সুদীপ্ত বিশ্বাসের দুটি --

সুদীপ্ত বিশ্বাসের দুটি --

খড়কুটো

তোমাকে বুঝবার বুদ্ধি বিধাতা দেননি কাউকে!
কখনও তুমি লাস্যময়ী উর্বশী,
কখনও তুমি মহিষমর্দিনী দুর্গা,
কখনও বা কাল্যানরূপী লক্ষ্মী।
যখন তুমি দখিন বাতাস হয়ে পাশে আসো-
তোমার মিষ্টি স্পর্শে প্রাণ জুড়িয়ে যায়।
যখন তুমি ডানায় ডানায় পাশাপাশি উড়ে চল-
পথশ্রমের কোনও ক্লান্তিই থাকে না।
যখন তুমি হঠাৎ নিরুদ্দেশ হয়ে যাও-
আমি আকাশ ভরা তারার মাঝে আমার তারা খুঁজি!
যখন তুমি নিজেকে উন্মোচিত কর-
তোমার অপার তরঙ্গ
আর অসীম গভীরতায় ভাসতে ভাসতে
আমার মনে হয়,
প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে আমি খড়কুটো।

নগ্নতা

রাতের কাছে নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই;
বরং ও রাত ঘন কালো চাদর মুড়ে
ঢেকে রাখে আমার যত নগ্নতা সব।

ওই আকাশে নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই;
বরং আকাশ ছাতার মতো  মাথার উপর
মুড়ে রাখে সবকিছু  তার বুকের ভিতর।

জল বাতাসে নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই;
বরং তারা একটু বেশি খুশি হয়েই
ফিসফিসিয়ে বলে কিছু বাড়তি কথা।

নদীর কাছেও নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই;
বরং নদী ছলাত-ছলাত ছন্দ তুলে
নগ্ন হয়েই আমায় শুধু নাইতে বলে।

বন-পাহাড়ে নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই
বরং তারা খুব খুশিতে দুজনেই চায়
আমি যেন খালি পায়ে যাই হেঁটে যাই।

পশুপাখি ওদের কাছেও লজ্জা তো নেই;
বরং তারা বন্দুক আর চশমা-টুপি
এসব ছাড়াই, সত্যি কোনও বন্ধুকে চায়।

এই দুনিয়ায় সহজ যারা তাদের কাছে
নগ্ন হতে লজ্জা তো নেই,লজ্জা ভুলে
তাই তো সত্য নগ্ন হয়েই একলা চলে।

মানুষ দেখে নগ্ন হতে লজ্জা করে
মানুষগুলো লুকিয়ে রাখে নিজের মুখও
তারা শুধুই মিথ্যে বলে, মুখোশ পরে।

এই সমাজে নগ্ন হতে লজ্জা করে
গোটা সমাজ মিথ্যেবাদী, ভ্রষ্টাচারী
নগ্নতা আর সরলতার সুযোগ খোঁজে।

বিভ্রম--মাথুর দাস

বিভ্রম--
মাথুর দাস

ভুল মানে কি কেবল ভুলেই যাওয়া,

নাকি শুধুই ভুলিয়ে দেওয়ার খেলা ?

জানি ঠিক মনে রাখে সেয়ানা হাওয়া,

আসেই যখন খই ওড়ানোর বেলা ।



খই মানে তো বেশরম সেই লাজ,

উড়ে পুড়ে খুঁড়ে বের করা যত অর্থ ;

কথার বুনোটে চিত্রিত কারুকাজ,

শরসন্ধানও লক্ষ্যভেদে চির অব্যর্থ ।



ঝড় ওঠে আর ঝড় থামে এক ফাঁকে,

মাঝখানে কেবল গুছিয়ে নেওয়ার দিন ;

দিন হলে শেষ কে আর মনে রাখে

অন্ধকারে আলোর যত অনাদায়ী ঋণ ?

সুনীল মাজির দুটি কবিতা --

সুনীল  মাজির দুটি কবিতা --

অশ্রু দাও 

বত্রিশ বছর কেটে গেছে তোমার সাথে দেখা নেই, 
দেখা নেই তবু চাঁদ উঠেছে।
চাঁদ উঠেছে ফুলও ফুটেছে তবু দেখা হয়নি।
হয়তো চলে গেছ পাশ দিয়ে খুব ঠোঁট লালপান ছিল চিনতে পারিনি।
আমিও যে একাদশী পূর্ণিমায় মাছ মাংস খাইনি এমন তো নয়,
প্রতিদিন বাজারে গেছি সব্জি বাজারের পর মাছ না হলে মাছের ডিম কিনেছি,
মুরগি না কিনলে গণ্ডা গণ্ডা অন্ডা কিনেছি।
এই কেনাবেচা করতে করতে পাশ দিয়ে চলে গেছে বত্রিশ বছর। 
খুব কি কুয়াশা ছিল? খুব কী মেলা ভিড়ে হঠাৎই আকাশ ভাঙা বৃষ্টি ?
তোমাকে হারিয়ে ফেলার অনেক কারণ তো ছিলই।
সেই বন্যায় আমাদের বাড়িটি হুড়মুড় করে পড়ে গেল।
আমাদের গৃহপালিত জীবগুলো জিব বের করে চেঁচাচ্ছিল।
তাদের প্রত্যেকের গলায়  বাঁধা ছিল দড়ি। 
তাদের প্রত্যেকের ডাক নাম ছিল--- খাবারের বাটি বিছানা ছিল।
দূর্গাপুরের ব্যারেজ ভেঙে যেতেই আমাদের মা দূর্গা আর পাশে থাকল না,
লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক গণপতি সবাই পালালো।
মানুষের পায়ের তলা থেকে মাটি চলে গেলে পাতাল আর স্বর্গ দুটোই থাকে।
স্বর্গসুখে যেতে গেলে উজান লাগে আর রসাতলে যেতে ভাটা।
আহা রে গড্ডালিকা আমার---গায়ে গা লাগিয়ে পার্থিব লাশসাঁতারে
অনেক ডাক এসেছে আমার---তবু যাওয়া হয়নি,  কেননা তুমি বাধা দিয়েছ।
ভেবেছ, আমি তোমাকে চিনতে পারিনি? মায়াগন্ধের ঘোর ছিল !
প্রতিবারই একটা আশ্চর্য সচল ছায়া আমাকে জাল ছিঁড়ে বের করে এনেছে। 
এমন নয় যে, প্রতিদিন সূর্য দেখার মতো তোমাকে দেখেছি,
তবে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কবিতা বুকে নিলেই আমাদের পরিচিত পথ ধরে
 তোমার উচ্চারিত রবি ঠাকুরের গানের পঙক্তিগুলো সারাটা জীবন আমার সাথে ঘুরেছে। 
যতই বলি, যাও ফিরে যাও---দুই কন্যার জননী তুমি, উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সহকর্মী তুমি,
কী সুন্দর কয়লা মাটি সরিয়ে বাগান করেছ---কত ফুল তোমার বাগানে!
আমার নিজস্ব কোনও জমি নাই জানো ?
আমি ছাদে খুবই শূন্যে আকাশের কাছাকাছি গিয়ে সখের উদ্যান গড়েছি।
আকাশের তারামণ্ডল আমাকে ভীষণ সাহায্য করেছে।
সূর্যের আলো না পেলেও পাতাবাহারে ফুল ফুটতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি।
কী আশ্চর্য সবুজ আড়ালে শ্বেতশুভ্র পুষ্পের চাঁদের ঘরবাড়ি!
কিছুই তো চাইনি তোমার কাছে তবু কেন পাঠাতে চাও মঙ্গলে?
আমি গুনগুন করি হরিনামের মতো গুনগুন---না না এই বত্রিশ বছর আমি কাঁদিনি!
 

একটি প্রেমের অভিসার 


মাঝে মাঝেই আমার  সেই পাহাড়টার দিকে চোখ চলে যায়,
কোনদিনও হয়তো আর পাহাড়টার বুকে বসে আকাশের গল্প হবে না
কেমন করে ঝড় বৃষ্টির অন্ধকারে সে বেঁচে থাকে জানা হবে না
পাহাড় থেকে যে নদীটি বেরিয়ে এসেছে তার পাড়ে বেড়ানো হবে না আর
এমনও হতে পারে হাত ধরাধরি করে সেই ঝাঁপ দেওয়ার দৃশ্য মনে পড়বে না
যে সব রাতগুলোতে আকাশের দিকে তাকিয়ে কত না রবীন্দ্র সংগীত 
কোন গানটা আগে বা পরে গাইব জিজ্ঞেস করতে হতো না কখনও 
ভেতরের এক নির্দেশে সব গান সুর দৃশ্য চিত্র অই পাহাড়ের মতো ভেসে 
আহা, পাহাড় যে ভাসিয়ে ভাসিয়ে উপরের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে 
এখানেই মনে হয় কোনও পার্থিব আকর্ষণ নেই
প্রেমে কখনও কারো পার্থিব টান থাকে না
অন্ধকারের ভেতর ভীষণ একান্ত যাত্রাপথে এসে 
রোদের মতো উষ্ণতা নিয়ে কেউ না কেউ ভেসে 
শরীরে হয়তো কোনও দিন কারও বিছানার কাছে যাওয়া হবে না
দৃশ্যত এক নৈঃশব্দ্যের ভেতর তবুও নিঃশ্বাসের অভাব থাকে না আলোআগুন।

6294707505/ রচনা 18 06 2022

দুগ্গা আসেন--অদিতি ঘটক

'শারদীয়ার
 'কবিতা'

দুগ্গা আসেন--
অদিতি ঘটক

শরৎ বেলা মেঘের খেলা আকাশ জুড়ে/
বাতাস মাতে আগমনী বাঁশির সুরে/

নদীর ধারে চামর দোলা কাশের বন/
প্রভাতী রাগে বিহগ কুজন অনুক্ষণ/

দুচোখ ভরা ধানের ক্ষেতে হাওয়ার দোল/
হাওয়ায় ভাসে পাখপাখালীর কলরোল/

মাঠের ধারে তাল তমালে আলোর খেলা/
শাপলা শালুক ঢোল কলমি ফুলের মেলা/
 
শিশির ধোয়া সবুজ মাঠে ঘাস ফড়িং এর লাফ/
 জল ফড়িং পদ্ম পাতায় একাগ্র চুপচাপ/

মা দুগ্গা আসবে বলে শরৎ সাজায় ডালা/
পদ্ম, শিউলি, নীলকণ্ঠের শ্রদ্ধার্ঘের পালা/

ঢ্যাঙকুড়াকুর ঢ্যাঙকুড়াকুর বাজে ঢাকের বোল/
উমা আসার আনন্দে জলেস্থলে ওঠে যে হিন্দোল/

 একা দূর প্রবাসে থাকতে কি আর মন চায়/
অবুঝ মন বঙ্গদেশের পল্লী পথে সটান ধায়/

প্রাণ জুড়ায় দেখে মা দুগ্গার বরাভয়ের মুখ/
নতুন জামা নতুন জুতোয় দুঃখ ভুলে উৎসবের আনন্দে ভরে সবার বুক/
 ######################

Thursday, 8 September 2022

প্যাকেজ ট্যুর--জয়িতা ভট্টাচার্য

প্যাকেজ ট্যুর--
জয়িতা ভট্টাচার্য 

ভ্রমণ সংক্রান্ত কথা উঠলেই চোখ থেকে খসে পড়ে ছোটোবেলা।
 পাহাড়ে গেলে ঘাসের ফাঁকে পাথর।উরু পথ ঘেঁষে তোমার জঙ্ঘাবিজয়।  নাভিতে লালচে দাগ।জলের সঙ্গে এখন আড়ি।
ধ্বস নামে জংলি পথে যেখানে নদীর পাশে রেখে আসি আমার কাটা আঙুল। 
ভ্রমণের কথা লেখা থাকে হোটেলের পর্দা,আয়নার টিপে।
প্রতিটা প্রয়াগে স্বমেহনের পুণ্য লেগে থাকে।
বেড়াতে যাবার সময় খুলে রাখি দুটো পা।
বারান্দায় বসে বসে দেখি তোমার খবর।
হাজার হাজার পা ভ্রমণ করে শত শত শঙ্করাচার্য হয়ে মক্কা থেকে মদিনা।
শত শত ইঁদুরের দল নেমে যায় সমুদ্রের বাঁশি শুনে।
আমার যুবতী শেষ হলে চলে যাই যেখানে তুতানখামেন তোমার।

সমস্ত ভ্রমণ শেষে পড়ে থাকে এঁটো খেত।

শৈবাল কর্মকারের দুটি কবিতা--

শৈবাল কর্মকারের দুটি কবিতা--

(১)
স্বাধীনতা_একাল
            
         স্বাধীনতা! শিশুর পৃথিবীর প্রথম আলো দেখা,
    মায়ের আদর, বাবার স্নেহ বুক ভরা ভালোবাসা।
         স্বাধীনতা মানে ভোরের নতুন সূর্য 
     পাখির ডাক, ফুলের গন্ধ, নতুন স্বপ্ন আশা,
     স্বাধীনতা তুমি নিজ অধিকারের ভাষা।
স্বাধীনতা! স্বেচ্ছাচারিতা! নির্ভয়া কামদুনির তীব্র আর্তনাদ।
স্বাধীনতা মানে চায়ের দোকানে আড্ডা সমালোচনা ফেসবুক ট্রোল, রাজনীতি, মিছিল প্রতিবাদ।
স্বাধীনতা! রাশিয়ার আগ্রাসন_ইউক্রেন,
স্বাধীনতা মানে মৃত্যু মিছিল ভাইরাস ওমিক্রন,
স্বাধীনতা! সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, ভেদাভেদ রক্তপাত,
স্বাধীনতা মানে জিবন্মুক্তির সুসাইড মরণফাঁদ।
স্বাধীনতা মানে মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ জীবন নাভিশ্বাস,
স্বাধীনতা! তুমি সাহায্যের হাত, নতুন বন্ধু বেঁচে থাকার আশ্বাস।
স্বাধীনতা!"সকলের জন্য শিক্ষা"_শিশুশ্রম,
স্বাধীনতা মানে একাকিত্ব, ছোট্ট সংসার আর বৃদ্ধাশ্রম।
স্বাধীনতা মানে নানা অঙ্গীকার আবদার_
নানা অভিমান অভিযোগের স্তূপ,
স্বাধীনতা!"রাজা তোর কাপড় কোথায়?"_
না বলে থাকা নিশ্চুপ।

(২)
এসেছে শরৎ


                বৃষ্টি ভেজা গা,
                শরতের আকাশ মেঘলা,
                শিউলি_শালুক_শাপলা,
                বসে আছি একলা।

                পদ্ম পাতায় জমা জল,
                 শরতের আকাশ ছলছল,
                 ছন্দে নাচছে তরুদল,
                 "বর্ষা"না "শরৎ"বল?
               
                কুয়াশার সকাল আলস্য ভারি,
                ঘুরছে ফ্যান চাদর মুড়ি,
                 উমা আসছে বাপের বাড়ি,
                  "বর্ষা "না, এসেছে শরৎ _
                            বলতে পারি।



বীরেন্দ্রনাথ মন্ডলের তিনটি কবিতা --

বীরেন্দ্রনাথ মন্ডলের তিনটি কবিতা --

পার্বতী 

এক  সুউচ্চ পর্বত
যাকে আমি দেখি 
দূর হতে। 
মনে হয় যেন আকাশ ছুঁয়েছে। 
পর্বত  শৃঙ্গটি বরফের ধোঁয়ায় ঢাকা। 
নিস্তব্ধ শান্ত প্রশান্তির আবরণে একা। 

আমি মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকি। 
ছোয়ার ইচ্ছা হয় ভয় হয়। 
তাই দূর হতেই দেখি আর ভাবি। 
পর্বত কিভাবে হয়  সৃষ্টি? 
প্রকৃতির গঠন হয় এক আশ্চর্য। 
 অনন্ত কাল দাঁড়িয়ে থাকার বাসনা 
আচ্ছা, হিমালয় কতদিন দাঁড়িয়ে আছে ?
কোথাও কি আছে তার জন্মের ইতিহাস। 
 
মানুষের মন সেও  বড় বিচিত্র। 
সবার আলাদা আলাদা চিন্তা ধারা। 
স্রোতের মতো উঁচু নিচু ঝরনার মতো বয়ে যাওয়া। 
কোথায় যায় কোথায় হারায়? 
কে কার রাখি ঠিকানা। 
আজ যাকে না পেলে ভাবি বাঁচবো না। 
কাল কেন যেন হয়ে যায় অজানা? 

মনের বিচিত্র ধারা পাল্টায় ক্ষণে ক্ষণে। 
কারো বশ  মানে না সময়ে অসময়ে। 
তাইতো আজ যে খুব সুখী। 
কাল হয়ে যায় প্রচন্ড অখুশি। 
কারো সাথে কারো মত মেলে না। 
সময় যায় পার্বতী তুমি যেন হারিয়ে যেওনা। 

প্রেরণা  


তুমি যখন আমাকে প্রথমে বললে
তুমি কবিতা লেখ না কেন? 
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম
কবিতা আমি লিখব , পারব ?
কেন পারবে না তুমি বললে? 
তুমি তোমার কবিতার খাতা আনলে। 
অনেক কবিতা দেখালে পড়লেও। 

তুমি জানো তোমার কবিতা উচ্চারণ। 
শব্দের মায়া তরঙ্গ আমার শিরায়
উপশিরায় কখন কিভাবে মিশে গেল? 
আমার মনে হল তুমি আমার 
শরীরে মিশে একাকার হয়ে গেলে । 

তোমাকে আমি আর আমার সামনে
দেখতে পাই না। তখন আমি তোমার
নাম ধরে (আমার দেয়া)সোনা বলে ডাকলাম। 
তুমি উত্তর দিলে এইতো আমি আছি। 
তোমার কথা শুনতে পেতাম। আমি 
তখন বলতাম তোমাকে দেখতে পাই না কেন ?
তুমি বলতে কি করে দেখবে ?
আমি যে তোমাতে মিশে গেছি ।

আর তখন থেকেই তোমার সাথে আমার
ভালোবাসা হয়। সব সময় শরীর কেমন
যেনো একটা বিদ্যুতের চমক অনুভব করতাম। 
খুব ভালো লাগতো। বিশেষ করে তোমার
সাথে কথা বলতে। তোমার কি আমার মত ভালো লাগতো? 

তারপর হঠাতই একদিন একটা কবিতা
লিখে ফেললাম। নাম দিলাম
"কবিতা তোমার"
তোমাকে শোনালাম খুব যত্ন করে। 
তুমি বললে খুব ভালো কবিতা লিখেছো । 


অন্ধ জনে আলো
মৃতজনে প্রাণ

গভীর অমাবস্যার রাত 
আমি একাকী চলেছি। 
এক নিরুদ্দেশ যাত্রায় 
নিকষ কালো রাত 
কিছুই প্রায় দেখা যায় না। 

আমি কিন্তু চলেছি
জানিনা কিসের খোঁজে। 
আমাকে কে যেন হাটিয়ে নিয়ে যায়? 
শুধু হাটি ঘন অন্ধকারে। 
আমার কি হয়েছে তাও জানিনা? 

হঠাৎ মনে হল গঙ্গোত্রী যমুনোত্রীর কাছে  কি? 
কিছুই কেন যে দেখতে পাচ্ছি না? 
একথা কেন যে মনে হলো তাও জানিনা? 
কিংবা মানসরোবর এর কাছাকাছি। 
অন্ধকার অন্ধকার শুধুই অন্ধকার। 

হেঁটে চলেছি কি সকালের অপেক্ষায়। 
মানসরোবরের  উপর থেকে কি সূর্য উঠে। 
প্রভাতের আলোর কিরণে কি সবকিছু দেখা যাবে। 
আবার হয়ে উঠবে সূর্য রশ্নির  ঝলমল। 
উজ্জীবন হয়ে যাবে শিশিরভেজা কোন বিহঙ্গ। 
অন্ধজনে দেহ আলো মৃতজনে প্রাণ। 
চোখের অন্ধকার দূর হয়ে যায়। 
আমি দাঁড়িয়ে পড়ি আর তোমাকে অমনি দেখতে পাই। 

মানুষ পুতুল--সুনীল কর্মকার

মানুষ পুতুল--
      সুনীল কর্মকার

আমি পুতুল হয়ে খেলেছি
বাজিকরের হাতের সূতোয় বাঁধা জীবন।
পুতুল কবে যেন সূতো ছিঁড়ে বেরিয়ে এলো
এখন সে মানুষ ।
সে এখন নিজের কথা নিজে বলে
নিজের হাত --পা ইচ্ছেমতো নাড়াতে পারে।
মানুষ কখন পুতুল হয়
পুতুল  মানুষ হয়ে ইতিহাসের পথে পা রাখে ।
যাতায়াতের যে পথ রুদ্ধ হয়েছিল
পুতুল যখন নূতন পথ ধরে
ইতিহাসের সে  আধুনিক মানুষ।।
               

কবিতা --২

 নিয়ম

আলগোছে সেখানে যায়না ঢোকা
উঁচু মাথায় মাটিতে পা ফেলে ঢোকার নিয়ম।

শরীর বাঁ কা করে আলগোছে ঢুকেছে যারা
মন তাদের ছুঁড়ে ফেলে।

মন আগুন চায়,মন বাতাস চায়
মন কোমলতার সাথে কাটায় যেমন।

মন কঠিনেরে ভালোবাসে
কঠিনের শীর্ষে উঠে উল্লাস করে।

মন না ভিজিয়ে আলতো টোকা দেওয়া
জল--হাওয়া--জীবন যায়না পাওয়া।

শব্দ খেলায় সেখানে নেই মজা
হাড়ের ঠোকাঠুকি তে শুধু ভুতের বোঝা ।
       

শারদীয়া--প্রিয়াঙ্কা মান্না সিং

শারদীয়া--
প্রিয়াঙ্কা মান্না সিং

অচৈতন্য মন যাদুর কাঠি পায়
কাশফুলের মোহময় স্পর্শে
এমন আভাস আসে ধীরে ধীরে
যেনো আনন্দের ঘনঘটা বিশ্বে।

আকুল হৃদয় বসে অপেক্ষায় 
মহালয়া এর বাণী শুনতে
ষষ্ঠীর আগমন আনন্দের ঝর্ণায়
অষ্টমীর অঞ্জলী শেষ স্বপ্ন বুনতে।

নবমীর সাজসজ্জা, গন্ধ পুজোর
একই সুবাস একই ভিড়
সাঝছে তিলোত্তমা আমার শহর
সেজেছে উমা ভারী সুন্দর।

শারদীয়ার সকল আনন্দের রেশ
আগমনীর যাত্রার শেষ
দশমীর ধুনুচি , সিঁদুর খেলা , 
আবারও এসো উমা এই বেলা ।



- প্রিয়াঙ্কা মান্না সিং

ধান--বিউটি কর্মকার

ধান--
বিউটি কর্মকার

বাজটা অনেক উঁচুতে উড়ছিল,
তাকে দেখতে পাইনি।
আমার চোখে তখন দিগন্তবিস্তৃত
সবুজ ঘাসের মাদকতা,
ঠোঁটে লেগে কচি নরম ঘাস।
আসলে ওই ধানই বেইমান আমার!
একটু একটু করে বড় করে তোলা যাকে,
কে বলেছিল অমন ডাগর হতে?
একসময় বাজপাখিটার নজর পড়ে যায়,
চেঁচিয়ে বলে ওঠে, সামনের দিন তৈরি থাকিস,
ধান আমার, নয় প্রাণ আমার!"
বড় আদরের ধান! তাই মুখ থেকে আর
ধান দিতে পারলাম না।
আসলে দেনা ছিল খুব ওই বাজপাখিটার কাছে,
ওঁর নরম করুনার চাহনি,
নিয়েছিলাম হাজার দুয়েক ঋণ।
সবাই বলে তারে মহাজন!
তাই গতকাল যখন সন্ধ্যা হল, ভয় হল বড়।
আমার ডাগর ধান, আমার কপালপোড়া ঋণ!
এখন আমি ধানের বিছানায় শুয়ে পরম নিশ্চিন্তে,
মুখে আমার সোনার টুকরো ধান!


একম্ অদ্বিতীয়ম্--অংশুদেব

একম্ অদ্বিতীয়ম্--
অংশুদেব

কত কবিতা মরে একটা কবির জন্ম হয় 
নর্দমা দিয়ে কত কালো জল বয়ে যায়।

আকাশে অনেক অনেক বিরক্তির ঘুড়ি 
আমার মনের দুপুরে  বার্দ্ধক‍্য ডেকে আনে।
আমার  রাত জাগা কান্নাগুলো
সাবালক হলো না আজো !
নগর কীর্তনে রোজ ভোরে  বোষ্টমী এক গান শুনিয়ে যায় - এমন মানুষ পেলাম না রে...
রোজ সকালে সূর্য জলে স্নান সেরে
নিজেকে জন্ম দিই দিনের কাব‍্যে,
কষ্টগুলো মুছে মুছে প্রতিদিন  বাঁচি,তবু বাঁচার বর্ণ পরিচয় দ্রৌপদীর বস্ত্র ছুঁতেও পারে না!
তবুও একলব‍্য হবো আর্য অহংকারের বনে
এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার,রক্তের শপথ।
আমার তো গুরু নেই,আমরা দ্বৈপায়ন -
চাষের মাঠে মহাভরত লিখি চোখের জলে।
আমাদের বুকে সূর্য ডোবে না,নামে না ঘুমের চাঁদ
আমাদের মা গুগলি তুলতে গিয়ে দেয়নি অভিশাপ।
আমি রাজ‍্যহীন রাজার তবুও বংশধর
আমার বুকে আজো আছে ভালোবাসার ঝড়।
ঘুড়ি থেকে খুলে গেছে বিদ‍্যুৎ কন‍্যা
আমি নদী হয়ে আজো কাঁদি শ্রাবন বন‍্যা,
আসলে আমি উড়ে উড়ে আগুন খুঁজে আনি
প্রমিথিউস আমি  নতুন প্রজন্ম হাহাকারে 
যেমন তেমনভাবে একটা আমি হবই।

নয়তো নর্দমার স্রোত তো আছেই
কত কবি মরে একটা কবিতা হবে।

এলবাম--অঞ্জলি চক্রবর্তী

'এলবাম--অঞ্জলি চক্রবর্তী

       একটা স্মৃতি থেকে আর একটা 
                                স্মৃতির কুঠরীতে
   এগিয়ে যাচ্ছে মন।
    যেমন পাতা রেল ধরে ছুটে        ।          
                            যায় ট্রেন ,
হয়তো বা ট্রেন নয়,দুপাশের                  
                            গাছদৃশ্যরা
উল্টো পথে পাল্লা দিয়ে ছোটে।

স্মৃতির বাইরে বসে আলো ছায়া
                         অজস্র আগল-
আর পিছুটান ,ক্যানভাসে ---
কে যেনো আঁকে জীবনের ছবি ।
           
            -----------------

বৃষ্টি অনাসৃষ্টি--ডঃ তাপস কুমার সরকার

বৃষ্টি অনাসৃষ্টি--
ডঃ তাপস কুমার সরকার


কি অপরূপ সৃষ্টি তুই
আয়না, তোকে একটু ছুঁই। 
ভিজিয়ে দিতে আজ আমায়
তোর কি কিছু আসে যায়!  

মেঘের উপর  মেঘের সাজ
রবির আলো কমেছে আজ। 
মুখটি ঢেকে এই আঁধারে 
হারাবো আজ বারে বারে। 

শরীর ভেজাস মিষ্টি বৃষ্টি
ভেজেনা মন কি  অনাসৃষ্টি! 
রিম ঝিম ঝিম প্রানের সুর 
কাছে আয় থাকিস না দূর। 

টিপটিপ টিপ পড়িস যখন
সোঁদা গন্ধে আকুল তখন। 
কেন জানিনা মনটা হারায়
ঝমঝম ঝম অঝোর ধারায়।

কমিক রিলিফ--শান্তনু গুড়িয়া

কমিক রিলিফ--
শান্তনু গুড়িয়া

 হে হে হে হে হে হে
 দোরে দোরে ঘোরে বলো কে হে ?
 ভোট এসেছে, ভোট-ভিখারি ঘুরপাক
 হাসিমুখে প্রতিশ্রুতি বিলোয় বুরবাক !
 ভোটের পরেই জোটের লাগি খায় ডিগবাজি,
 তোমরা বলো ভেলকি দেখতে কে কে রাজি ?

 হে হে হে হে হে হে
 নৈরাশ্যের অন্ধকারে ভূতের মতো বসে কে হে ? 
 চাকরি চাও? আছে তোমার লাখ টাকা ?
 ঘুরবে তবেই জীবন-গাড়ির ওই চাকা !
 মহাজ্ঞানী মহাজনের জ্ঞানের বাণী সব ফাঁকা,
 চোখে শুধু ভ্যাবাচাকা ভ্যাবাচাকা ভ্যাবাচাকা |

 হে হে হে হে হে হে
 পশ্চাৎদেশে ঝেড়ে মারছো লাথি কে হে ?
 চাটুকার আর বশংবদে করে খাচ্ছে বেশ
 এগিয়ে আছে বাংলা যখন পিছিয়ে পুরো দেশ
 নৈরাজ্যের হড়কা বানে ভাসছি খড়কুটো
 অনেক হলো কমিক রিলিফ, এবার সবাই ফুটো |



________________________________________

 

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা --

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা -- ১ পাখিদের গণসংগীত সূর্যের দিকে পিঠ পালটানোর মুহূর্তে  দুষ্টু আত্মারা তোমাকে ছেড়ে চলে যায়  কারণ,ওই ...