Friday, 9 September 2022

সুনীল মাজির দুটি কবিতা --

সুনীল  মাজির দুটি কবিতা --

অশ্রু দাও 

বত্রিশ বছর কেটে গেছে তোমার সাথে দেখা নেই, 
দেখা নেই তবু চাঁদ উঠেছে।
চাঁদ উঠেছে ফুলও ফুটেছে তবু দেখা হয়নি।
হয়তো চলে গেছ পাশ দিয়ে খুব ঠোঁট লালপান ছিল চিনতে পারিনি।
আমিও যে একাদশী পূর্ণিমায় মাছ মাংস খাইনি এমন তো নয়,
প্রতিদিন বাজারে গেছি সব্জি বাজারের পর মাছ না হলে মাছের ডিম কিনেছি,
মুরগি না কিনলে গণ্ডা গণ্ডা অন্ডা কিনেছি।
এই কেনাবেচা করতে করতে পাশ দিয়ে চলে গেছে বত্রিশ বছর। 
খুব কি কুয়াশা ছিল? খুব কী মেলা ভিড়ে হঠাৎই আকাশ ভাঙা বৃষ্টি ?
তোমাকে হারিয়ে ফেলার অনেক কারণ তো ছিলই।
সেই বন্যায় আমাদের বাড়িটি হুড়মুড় করে পড়ে গেল।
আমাদের গৃহপালিত জীবগুলো জিব বের করে চেঁচাচ্ছিল।
তাদের প্রত্যেকের গলায়  বাঁধা ছিল দড়ি। 
তাদের প্রত্যেকের ডাক নাম ছিল--- খাবারের বাটি বিছানা ছিল।
দূর্গাপুরের ব্যারেজ ভেঙে যেতেই আমাদের মা দূর্গা আর পাশে থাকল না,
লক্ষ্মী সরস্বতী কার্তিক গণপতি সবাই পালালো।
মানুষের পায়ের তলা থেকে মাটি চলে গেলে পাতাল আর স্বর্গ দুটোই থাকে।
স্বর্গসুখে যেতে গেলে উজান লাগে আর রসাতলে যেতে ভাটা।
আহা রে গড্ডালিকা আমার---গায়ে গা লাগিয়ে পার্থিব লাশসাঁতারে
অনেক ডাক এসেছে আমার---তবু যাওয়া হয়নি,  কেননা তুমি বাধা দিয়েছ।
ভেবেছ, আমি তোমাকে চিনতে পারিনি? মায়াগন্ধের ঘোর ছিল !
প্রতিবারই একটা আশ্চর্য সচল ছায়া আমাকে জাল ছিঁড়ে বের করে এনেছে। 
এমন নয় যে, প্রতিদিন সূর্য দেখার মতো তোমাকে দেখেছি,
তবে ঘুমোতে যাওয়ার আগে কবিতা বুকে নিলেই আমাদের পরিচিত পথ ধরে
 তোমার উচ্চারিত রবি ঠাকুরের গানের পঙক্তিগুলো সারাটা জীবন আমার সাথে ঘুরেছে। 
যতই বলি, যাও ফিরে যাও---দুই কন্যার জননী তুমি, উচ্চপদস্থ আধিকারিকের সহকর্মী তুমি,
কী সুন্দর কয়লা মাটি সরিয়ে বাগান করেছ---কত ফুল তোমার বাগানে!
আমার নিজস্ব কোনও জমি নাই জানো ?
আমি ছাদে খুবই শূন্যে আকাশের কাছাকাছি গিয়ে সখের উদ্যান গড়েছি।
আকাশের তারামণ্ডল আমাকে ভীষণ সাহায্য করেছে।
সূর্যের আলো না পেলেও পাতাবাহারে ফুল ফুটতে এতটুকু অসুবিধা হয়নি।
কী আশ্চর্য সবুজ আড়ালে শ্বেতশুভ্র পুষ্পের চাঁদের ঘরবাড়ি!
কিছুই তো চাইনি তোমার কাছে তবু কেন পাঠাতে চাও মঙ্গলে?
আমি গুনগুন করি হরিনামের মতো গুনগুন---না না এই বত্রিশ বছর আমি কাঁদিনি!
 

একটি প্রেমের অভিসার 


মাঝে মাঝেই আমার  সেই পাহাড়টার দিকে চোখ চলে যায়,
কোনদিনও হয়তো আর পাহাড়টার বুকে বসে আকাশের গল্প হবে না
কেমন করে ঝড় বৃষ্টির অন্ধকারে সে বেঁচে থাকে জানা হবে না
পাহাড় থেকে যে নদীটি বেরিয়ে এসেছে তার পাড়ে বেড়ানো হবে না আর
এমনও হতে পারে হাত ধরাধরি করে সেই ঝাঁপ দেওয়ার দৃশ্য মনে পড়বে না
যে সব রাতগুলোতে আকাশের দিকে তাকিয়ে কত না রবীন্দ্র সংগীত 
কোন গানটা আগে বা পরে গাইব জিজ্ঞেস করতে হতো না কখনও 
ভেতরের এক নির্দেশে সব গান সুর দৃশ্য চিত্র অই পাহাড়ের মতো ভেসে 
আহা, পাহাড় যে ভাসিয়ে ভাসিয়ে উপরের দিকে টেনে নিয়ে যেতে পারে 
এখানেই মনে হয় কোনও পার্থিব আকর্ষণ নেই
প্রেমে কখনও কারো পার্থিব টান থাকে না
অন্ধকারের ভেতর ভীষণ একান্ত যাত্রাপথে এসে 
রোদের মতো উষ্ণতা নিয়ে কেউ না কেউ ভেসে 
শরীরে হয়তো কোনও দিন কারও বিছানার কাছে যাওয়া হবে না
দৃশ্যত এক নৈঃশব্দ্যের ভেতর তবুও নিঃশ্বাসের অভাব থাকে না আলোআগুন।

6294707505/ রচনা 18 06 2022

No comments:

Post a Comment

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা --

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা -- ১ পাখিদের গণসংগীত সূর্যের দিকে পিঠ পালটানোর মুহূর্তে  দুষ্টু আত্মারা তোমাকে ছেড়ে চলে যায়  কারণ,ওই ...