Showing posts with label দেবব্রত রায়. Show all posts
Showing posts with label দেবব্রত রায়. Show all posts

Saturday, 17 September 2022

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা --

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা --

পাখিদের গণসংগীত

সূর্যের দিকে পিঠ পালটানোর মুহূর্তে 
দুষ্টু আত্মারা তোমাকে ছেড়ে চলে যায় 
কারণ,ওই মুহূর্তে পাখিরা গান গেয়ে ওঠে। 

দুনিয়া-কাঁপানো সেইসব গণসংগীত
বুকের ভিতর একটা নদীর জন্ম দেয়,  
যার শরীরটা শুধু , পাহাড় ভাঙা-ঘাম 
আর, আকাশ দিয়ে তৈরি  

এবং এইসব কারণেই বোধহয়, 
সমুদ্রগুলো নোনতা আর,নীল-
রঙের হয়ে ওঠে 

বারোমাস যাদের সমুদ্রেই নাওয়া-
খাওয়া , তারাই এইসব তত্ত্বতালাশ 
মেঘের এনভেলাপে ভরে উপকূলবর্তী-
অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়, যা এঁদো ডোবা-
আর,খালবিলগুলোকে ক্রমশ
আকাশমনা করে তুলতে চায় । 

বুকের খোয়াইয়ের অজন্তা-ইলোরায় কান 
পাতলেই,পালতোলা জাহাজের দাঁড়ের শব্দে 
ভাটিয়ালি ঝুমুর বাউল...এমনকী, 
রবীন্দ্রনাথ জীবনানন্দের  সঙ্গে ফ্যান-ভাতের 
গন্ধও খা-খা  মরুভূমিতে ছড়িয়ে পড়ে 

আর, ঘুমন্ত রাজকন্যার কপালে
একঝলক বাদলাহাওয়া-র 
ছোঁয়ায় যেন কাড়া-নাকড়া 
ঢোল-ডগড় একসঙ্গে বেজে 
উঠলেই, প্রথম কান্নার দিনটার
 মতো সবকিছু মরূদ্যান হয়ে ওঠে 


ব্ল্যাকহোল-প্রসঙ্গে 


সেফটিপিনের সঙ্গে যে-সমস্ত 
জামা ও জুতার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক  
তারা হাসলেই, পৃথিবী জুড়ে 
ভাতের গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে 

আসলে,এইসব হাসির ভিতরে  
যে-দুধগন্ধ মিশে থাকে,তার 
কোনো বিকল্পই নেই একমাত্র, 
ভাতের গন্ধ ছাড়া 

একটা ডানার আশ্রয়ে সব-হারাদের 
ইচ্ছেগুলো খুব মিলমিশে থাকলেও,
কখনো-কখনো বাতাসে ধান-গন্ধ
আঁকার ইচ্ছায় বারুদের গন্ধকেও
ভীষণ নিজের করে নিতে  হয় 

একমুঠো শান্তির জন্য 
যুদ্ধ অত্যন্ত জরুরি বলেই
সেফটিপিন সম্পর্কিত জামা 
এবং জুতোরা ফসলের মুখ 
চেয়ে দীর্ঘজীবন হা-ভাতেই
থেকে যায়
 
ব্ল্যাকহোলের অন্ধকারেও 
তামাটে বলিরেখায় জং-
খাওয়া সেফটিপিন, 
বুকের হাড়-পাঁজরা বজ্রের হাতুড়ি- 
শাবল দিয়ে কখনো কখনো 
বিশ্বাসঘাতক হাওয়ায়-চপ্পলদের 
ডেথ-সার্টিফিকেট লেখে

অবশ্য,পৃথিবীর ধূলো-বালি মেখে 
যারা বড়ো হয় একমাত্র,তাঁরাই 
ব্ল্যাকহোল-প্রসঙ্গে হেরাক্লিস 
হয়ে ওঠে  


ডানাগুলো উদ্বাস্তু আর,ঝগড়াটে হয়ে উঠছে 


রসাতল থেকে পৃথিবীটা আবারও 
রসালো চমচমের মত ফিরে আসবে 
কিনা,সে-বিষয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে 

কিন্তু, নিরাশাবাদের মধ্যেই তো
মায়াদেবীর কোল জুড়ে জন্ম নেয়
 মুশকিলআসান বুদ্ধদেব 


এমকী,আমরাও আত্মীয়স্বজনের লাশ 
পাশ কাটিয়ে একটা ঘামগন্ধ-মাখা নুন 
ইভিনিং নাইট-শো-র কিউতে গিয়ে 
আবারো ' লাইন দি-ই '

যদিও,এই আশ্চর্য চুম্বক-ক্ষেত্র তৈরির  
সময় হোমোস্যাপিয়েন্সদের অপেক্ষায়
কিছুই আটকে থাকেনি ফলে, রসাতল 
থেকে তুলে আনার জন্যও যে তাদেরকে
 বা,তাদের সবাইকে দরকার হবে তার 
কোনো মানেই নেই

বরং, ভরা গাজন নষ্ট করার জন্য 
এক শ্রেণির হোমোদের বেশ সুনাম 
আছে নাহলে, ঘর-দুয়ার নাড়ি-নক্ষত্র 
ঝলসে যাচ্ছে দেখেও ,তারা 
বারবার খাণ্ডবদাহনে মেতে 
উঠতো না 

পৃথিবীর এইসব শরীর খারাপের সিমটম
লেখা থাকে কাঁটাতারের বেড়ায় বিলুপ্ত-
প্রায় ডানার শায়েরীতে

মাথাগোঁজার লড়াইয়ে দিন-দিন
উড়তে না-পারা ডানাগুলো এতটাই 
উদ্বাস্তু আর,ঝগড়াটে হয়ে উঠছে যে 
তাদের বুকের ভিতর থেকে পদ্ম টাঁটি-র 
বদলে শুধুই, বিষাক্ত হুল বেরিয়ে আসে 
এবং মা-মেরিকেও যা রক্তাক্ত করে তোলে

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা --

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা -- ১ পাখিদের গণসংগীত সূর্যের দিকে পিঠ পালটানোর মুহূর্তে  দুষ্টু আত্মারা তোমাকে ছেড়ে চলে যায়  কারণ,ওই ...