১
নিষিদ্ধ প্রেম
কাশফুলে সাদা বন,সাদা মেঘে উড়ু মন
পাখিদের ডাকে সাড়া, পদ্ম দীঘি মন কাড়া,
তোমাকে পাবার রণ, এ পথেই লোকজন।
যাই ছুটে অভিসারে তুমি তুমি মন করে
নিষিদ্ধ প্রেমের গন্ধ অভিসারী পথ বন্ধ
লাজুক লাজুক চোখে বুকেতে কম্পন ধরে।
ছাতনা তলায় মেঘ,সামিয়ানা টানে একা,
মন জুড়ে সুখবৃষ্টি হবে আজ শুভদৃষ্টি ,
প্রথম পরশে রাঙা কপোলের ওষ্ঠরেখা।
নবরাগে গাঁথা স্মৃতি ভুল করে রতি পতি
রাধা কৃষ্ণ মানে হার জীবনের ছিন্নতার
বারবার আকর্ষণে নিষিদ্ধ প্রেমের গতি।।
২
আষাঢ়
এআষাঢ়ে বৃষ্টিভেজা চোখে চেয়ে থাকি দূরে,
শহরের হাহাকার, চারিদিকে ব্যাভিচার,
ট্রেন ছোটে প্রতিদিন, দূর দূর বহুদূরে,
এ আষাঢ়ে এক পেট ক্ষিদে,ঘুম নেই চোখে,
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দানা বাঁধে, পড়ে যায় নানা ফাঁদে,
মিথ্যে স্বপ্ন বুনি মনে, ভিটে মাটি পথ রোখে।
বিষ মিশে গেছে আজ, শহরের মাটি জুড়ে।
বেকারের বেকারত্ব,নেই কোনো বোধিসত্ত্ব।
দেহ রোগ ছেড়ে আজ, মনোরোগ মন ফুঁড়ে।
খালিপেটে বেকারের প্রেম বৃষ্টি ভিজে ছোটে,
ভাসাই সুখের স্বপ্ন, মাতৃভূমি প্রেম রত্ন,
এ আষাঢ়ে বৃষ্টি নামে,প্রেয়সীর ভুখা ঠোঁটে।
৩
যাযাবর
আধুনিক রীতিনীতি পালটেছে গতিবিধি,
সকলেই ছুটে যায় বিদেশের দরজায়,
পরবেশে সুখ পায় জন্মভূমি নিরবধি ।
মাতৃ শক্তি মহামায়া ধরেছেন রক্তকায়া
রক্তবস্ত্র পরিহিতা যাযাবরে সমাহিতা
ভুলে গিয়ে দেশ ধর্ম রপ্ত করি পরছায়া।
পরভাষা করে রপ্ত বিদেশে হয় আসক্ত,
সোনালী সোনার ধান বুলবুলি কেড়ে খান,
তবু বলি ঘরে থাকো মাথা ঠুকে হই ভক্ত।
যাযাবরে মান বাড়ে যাযাবর মন কাড়ে,
যাযাবরে মন তাই সকলেই হাই ফাই
সপ্তডিঙ্গা তাই ছাড়ে ঠেকে যেন স্বর্গ পাড়ে।।
৪
সম্পর্ক
সম্পর্কের বেড়াজালে বাধা আছে ঘরে ঘরে,
সকলেই অভিনেত্রী সময়ের অভিযাত্রী,
ভবসাগরের রঙ্গমঞ্চে রঙ্গ শেষে ফেরে।
বিশ্বাসে ভালোবাসায় মধুচন্দ্রিমায় যায়,
সন্তানের জন্য সুখ, সন্তানের কষ্টে দুঃখ,
পিতামাতার ঋণ শোধে, থাকে নিজ বোধে,
স্বার্থপর বাবা-মাও সন্তানের কষ্টচায় ,।
ব্রিলিয়ান্ট রাজা স্বর্ণ মুকুরে নিজেকে দেখে
জিততেই হবে বিশ্ব সবাইকে করে নিঃস্ব
আঁধারে বাধা প্রতিবাদ, সবার ভাগ্য লেখে।
বাজারের ব্যাগ হাতে রাজা শপিংমলে যায়,
তারপর ঝোলা ভরে,রাজা কিনে ফেরে ঘরে,
ল্যাপটপে যোগ করে রাজাদের যান প্রাণ
সব দেশ কিনে নিয়ে বসে থাকে চুপচাপ,
একাই এক রাক্ষস খেয়ে ফেলে খোক্ষস ,
খোক্ষসবোকা বেচে ফেলে চৈতন্য টুপটাপ।।
সম্পর্কের আয়নায় গিন্নির মুখ ফ্যাকাশে ,
গরীব ননদ দুষ্ট ,ধনী বৌদি হৃষ্টপুষ্ট ,
গিন্নির চোখের তারায় দুটি মুখই ভাসে ,
সম্পর্কের বেসামাল টালে, সামাল সামাল।
৫
ঝুলনা
শ্রাবণের আকাশ ছাতিম ফুলের মাথায়,
আবছা জলছাপে আঁকা ফুলের পাপড়ি,
নীচে আবছা আলোয় অভিমানী আমি।
তোমার মনে এখন আমি না, অন্য কেউ!
কদম বনে দোলা বেঁধে এখন নতুন ঝুলনা,
বিন্দু বিন্দু জলের শিহরণে রোমাঞ্চিত তুমি।
দূরে আমি একাকী,যন্ত্রনার প্রহর কাটাই,
তুমি আরসে,সে আর তুমি কদমের ঝুলনা
ঝুলনা বড়ো জোরে জোরে দুলে ওঠে।
ডুকরে কেঁদে উঠি, ছাতিম বনে একা,
মাথায় বৃষ্টি ফোঁটা পড়ে, নেমে আসে ওষ্ঠে,
চোখের জলের ফোঁটা গাল পেরিয়ে বুকে।
অহেতুক কামনার রঙ ধূসর হয়ে গেছে,
শিহরণ স্পর্শে আকুল দেহে মনে বিরহ,
আকাশ আওয়াজ করে ভেঙে পড়ে।
চোখ বুজে অনুভবে ছুঁয়ে থাকি আমি।।
৬.
প্রহসন
আকাশের তারাগুলি মিটিমিটি চায়।
বিচারের অপেক্ষায় শহীদেরা কাঁদে।
গভীর রাতে গ্রহণ লাগে জাগা চাঁদে।
বিচার চেয়ে শহীদ যারা আজ হায়।
তাদের চোখের জলে বৃষ্টি অগ্নি হয়,
সুযোগ সন্ধানী চুপ, সুযোগ নিয়েই,
বিচারের প্রহসনে খোলে রূপ যেই।
শহীদের অশ্রু জলে বৃষ্টি ঝরা জয়।
না পাওয়ায় যন্ত্রণা,ডুবে যায় ও কে ?
লড়াই করার ক্লান্তি,ক্লান্ত সে পথিক,
জীবনের মলাটের পাতা ছিঁড়ে ফেলি ,
চোখে মুখে রঙ মেখে,সাজায় নিজেকে,
যেন মসকরা করে , বড়ো রসিক।
শত মানুষের পথে,প্রশ্ন আঁখি মেলি।
৭
মেঘবাড়ি
আকাশের গাটি ঘেঁষে আজ করো বাড়ি,
মেঘারঙা শাড়ি ওড়ে ,মেয়ে হাসে খালি,
মেখলা বাড়ি ধোঁয়াতে ঢাকা ঢালে কালি,
সন্ধ্যা তারারা জ্বালিয়ে দীপ বলে আড়ি।
আঁধারি আলোয় যেন কে ঘোমটা টানে,
ছায়া পড়ে দীঘি জলে,সে আলতো খোলা,
হাঁসেরা খুনসুটিতে জলে দিচ্ছে দোলা,
মে দিবসের শ্রমিক হাতুড়ি ঘা হানে।
দুচোখের জলে আলো বিকিরণ হয়,
সমান্তরাল পথেই, হাঁটি হাত ধরে,
ঘর গড়ি বারবার, ভাঙা হয়ে যায়।
শ্রমিকের ভিড়ে মেলে শ্রমের আশ্রয়।
হাতুড়ি ছেনি মসৃণ , থাকে শিল্পী ঘরে,
যন্ত্র মধ্যে ভেসে ওঠে শ্রমিকেরি জয়।।
৮
অবেলা
আকাশের কপালে টি, গোধূলির বেলা,
কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়া রঙে রঙে মেলা।
সে সময়ে মনে পড়ে তোমার প্রশ্বাসে,
আমার ঘুমন্ত প্রেম, জাগে ভালোবেসে।
নরম গোলাপে প্রেম সুপ্ত পাপড়িতে,
চুম্বনের শিহরণে হৃদয় জাগাতে।
ভালো করে মুখখানা দেখিনি সেদিনে
অনুভবে ছোঁয়া এক,সে অন্য ব্যঞ্জনে।
যুদ্ধে গেলে বলে গেলে,ফের দেখা হবে,
মিথ্যে প্রতিশ্রুতি হল,বিরহই রবে।
ফিরেছ তুমি গোধূলি আজ সেই বেলা!
রক্তে ভেজা রাঙা মাটি ডুবন্ত অবেলা।
কফিনের ভেতরের ধোঁয়া আর ধোঁয়া
শব্দ যেন শোনা যায়,গন্ধ যায় ছোঁয়া।
৯.গণপতি
ব্যবসায় উন্নতির চাইছি আশীষ,
হয় যেন লাভ সব ক্ষণ অহর্নিশ।
মাথায় রাখো তোমার হাতের আশীষ,
সবার মাথায় ধন হোকনা বরিষ ।
সফল হোক বাসনা সবার সকল,
অক্ষয় তৃতীয়া দিন অক্ষয় করুক ,
ছন্দ ফেরাও গতিতে দাও শক্তি বল,
সবার প্রাণ আনন্দে দখল ভরুক।
গণপতি গজানন সিদ্ধিদাতা পতি,
খাতার হিসাব যেন নির্ভুল হয়গো,
তোমার আশীষ দাও আনো শান্তি পথ।
সকলের জীবনের দাও নব গতি,
সরল পথেতে যেন জীবনে পাইগো,
এসো সবার জীবনে,চড়ে জয় রথ।।
No comments:
Post a Comment