বিশ্বজিৎ রায় চৌধুরী
শিউলি ফুলের মৃদু সুবাস , বাসন্তী রঙের বৃন্ত
মাটির বুকে , পথের পরে , ঝরছে অবিরত ।
বৃষ্টি আসে মেঘের টানে , ঝিলিক দেয় রোদ্দুর ,
ময়না, টিয়া , বুলবুলি আর দোয়েল পাখির সুর ।
পুব আকাশটা বর্ষাস্নাত , মেঠো হাওয়া মাঠে ,
কাশফুল আর শাপলা ফুলের সমারোহ ঘটে ।
পদ্মদীঘির নিথর জলে চিকণ পাতায় জল ,
স্নিগ্ধ মৃদু হাওয়ায় দোলে পুষ্প শতদল ।
মন কেমনের শরৎ এল , ভরা প্রকৃতির কোল
স্বপ্নেরা আজ পাখা মেলে তুলছে খুশির বোল ।
মায়ের বোধন , ঢাকের কাঠি , আগমনী গানে
একটু ছোঁয়া , হিমেল পরশ ,লাগছে দোলা প্রাণে।
কোন সুদূরে দিচ্ছে পাড়ি দূর্গা মায়ের সমাবেশ
ছড়িয়ে আছে পূজার চলন দেশের থেকে বিদেশ,
দেবীপক্ষ শুরু হতেই মায়ের পূজার পার্বণী
মহালয়া দিয়ে তাঁর স্তবমন্ত্র গাথার আবাহনী ।
শ্রীরামচন্দ্র এই শরতে করেন দেবীর অকাল বোধন
মর্তবাসী তা স্মরণ করে , করেছে পূজার প্রচলন
নীলাম্বরী শাড়ির আঁচল , আকাশ রংয়ের মায়ায়
চলছে পথে হাজার হাজার ভক্ত মায়ের দয়ায় ।
হিন্দু আছে , খ্রীষ্টান আর নানা ধর্মের মানুষ তারা
শারদীয়া দুর্গাপূজায় আজ সবাই আত্মহারা ।
অসুর দলনী মায়ের সঙ্গী লক্ষ্মী -- সরস্বতী ,
কার্তিক আর গনেশ দেন আশীষ সবার প্রতি ।
আনন্দ তাই সবার ঘরে , সাজো সাজো রব ,
মুখরিত আকাশ বাতাস , বেজায় কলরব ।
তূর্য নিনাদ ভূবন জুড়ে চলছে দেবীর কদর
আগমনী সুরে বিভোর , ব্রাহ্মণ দোলায় চামর ।
দশভূজা দূর্গা মায়ের সুসজ্জিত পূজার প্রাঙ্গন
বাঙালীর ঘরে বন্দি ফ্রেমে পূজার গৃহ অঙ্গন ।
স্বজনহারা মানুষ খোঁজে স্বজনের মমতাস্থল ,
দেবী দুর্গা পারেন দিতে তাদের ভরসা বল ।
চারদিনের এই উৎসবে কেউ রবে না ব্রাত্য ,
ভীক্ষুক বা ধনী যারা, লভ্য মায়ের আনুগত্য ।
দুঃখ দুর্দশা , জ্বরা ব্যাধিগ্রস্ত , সবার আছে মা
দেবী দুর্গার আরাধনায় কেউ ত্রুটি করে না ।
উৎসবের মিলন মেলায় আনন্দেরই হাট ,
ঢাকের বাদ্যি কাঁসির ঠেকা , মন্ত্রে পূজাপাঠ ।
শরৎ আসে , বিষাদ কাটে , কি যেন হয় মনে ,
মনের কথা , মনের ব্যাথা , ইচ্ছাময়ীই জানে ।
No comments:
Post a Comment