দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়ের তিনটি--
১
রাত ভাসতে থাকে আনন্দে--
লুকিয়ে কাঁদলেই
মাকে মনে পড়ে
সেই আঁচলটা.....
জানালা গলে রাতের যে আকাশটা
আমার কাছে এসে দাঁড়ায়
সেও মায়ের মতো চোখের জল মোছায়....
না- পাওয়া কখন যেন গলে গলে গড়িয়ে পড়ে
এঁকেবেঁকে চলে যায়
আমার থেকে অনেক দূরে....
বাইরের বাগানে তখন রজনীগন্ধা ফুটছে
সাদা আনন্দ বাড়িময় ছড়াতে থাকে
একটু একটু করে....
***************
২
ছিল যেটা না থাকাতেই
হাত বাড়াতে তোমার কুন্ঠা এখন ভাবায়
বৃষ্টি ভেজা ভালোবাসার আলপথ পিচ্ছিল হয়ে উঠলো হঠাৎ?
বাঁশের সাঁকোটা দুলছে
নীচের নদী চেয়ে চেয়ে দেখে
থেকে যাওয়াটা বড়ো ধৈর্য্যের
তোমার স্বপ্নগুলো বড়ো আগুন মাখা ছিল হয়তো
বুঝতে পারিনি
এতোকাল পরে ফেলে আসা বিকেল ডাকলে
মুখ ঘুরিয়ে নিই
গঙ্গার হাওয়ায় কানাকানি উঠলে
সিগারেটটাকে গিলে খেতে ইচ্ছে করে কান্নার মতো
চুপ করে বসে থাকি
শুধু নদীর জল ছলাৎছল বলে
যা যাওয়ার তার জন্য দুঃখ কোরো না
ওটা কখনোই তোমার ছিল না
****************
৩
দু চোখে যখন প্রেমের কাজল
নীরবতাও এক ধরণের ভালোবাসা। চিৎকার করে বলার প্রয়োজন পড়ে না সে কথার।ভাববাচ্য সারা বাড়িতে আছড়ে পড়লে রজনীগন্ধা হাসে।জানে আকাশের ঐ কালো মেঘ এক আদুল গায়ে নেমে আসবে আজ রাতে। ভাসিয়ে নিয়ে যাবে নতুন কোন আবিস্কৃত দেশে যেখানে ফুলের রেণু মধু হয়ে ঝরে পড়বে সারা গায়। একটা মিষ্টি গন্ধ ছুঁয়ে যাবে আদরমাখা প্রতিটি রোমকূপ।শরীর জুড়ে যে আলোড়ন তার মন্থনে শুধু অমৃত উঠে আসবে ঠোঁট জুড়ে।একে অপরকে শুষে নিতে থাকবে তীব্র উষ্ণতায় হ্যাংলা মেঘের মতো। নেমে আসবে অবশ করা এক আলো। দুচোখ ভরে দেখতে থাকা তখন হাসতে থাকা তৃপ্ত শরীর।
**********
No comments:
Post a Comment