১
পার্বতী
এক সুউচ্চ পর্বত
যাকে আমি দেখি
দূর হতে।
মনে হয় যেন আকাশ ছুঁয়েছে।
পর্বত শৃঙ্গটি বরফের ধোঁয়ায় ঢাকা।
নিস্তব্ধ শান্ত প্রশান্তির আবরণে একা।
আমি মাটিতে দাঁড়িয়ে থাকি।
ছোয়ার ইচ্ছা হয় ভয় হয়।
তাই দূর হতেই দেখি আর ভাবি।
পর্বত কিভাবে হয় সৃষ্টি?
প্রকৃতির গঠন হয় এক আশ্চর্য।
অনন্ত কাল দাঁড়িয়ে থাকার বাসনা
আচ্ছা, হিমালয় কতদিন দাঁড়িয়ে আছে ?
কোথাও কি আছে তার জন্মের ইতিহাস।
মানুষের মন সেও বড় বিচিত্র।
সবার আলাদা আলাদা চিন্তা ধারা।
স্রোতের মতো উঁচু নিচু ঝরনার মতো বয়ে যাওয়া।
কোথায় যায় কোথায় হারায়?
কে কার রাখি ঠিকানা।
আজ যাকে না পেলে ভাবি বাঁচবো না।
কাল কেন যেন হয়ে যায় অজানা?
মনের বিচিত্র ধারা পাল্টায় ক্ষণে ক্ষণে।
কারো বশ মানে না সময়ে অসময়ে।
তাইতো আজ যে খুব সুখী।
কাল হয়ে যায় প্রচন্ড অখুশি।
কারো সাথে কারো মত মেলে না।
সময় যায় পার্বতী তুমি যেন হারিয়ে যেওনা।
২
প্রেরণা
তুমি যখন আমাকে প্রথমে বললে
তুমি কবিতা লেখ না কেন?
আমি আশ্চর্য হয়ে বললাম
কবিতা আমি লিখব , পারব ?
কেন পারবে না তুমি বললে?
তুমি তোমার কবিতার খাতা আনলে।
অনেক কবিতা দেখালে পড়লেও।
তুমি জানো তোমার কবিতা উচ্চারণ।
শব্দের মায়া তরঙ্গ আমার শিরায়
উপশিরায় কখন কিভাবে মিশে গেল?
আমার মনে হল তুমি আমার
শরীরে মিশে একাকার হয়ে গেলে ।
তোমাকে আমি আর আমার সামনে
দেখতে পাই না। তখন আমি তোমার
নাম ধরে (আমার দেয়া)সোনা বলে ডাকলাম।
তুমি উত্তর দিলে এইতো আমি আছি।
তোমার কথা শুনতে পেতাম। আমি
তখন বলতাম তোমাকে দেখতে পাই না কেন ?
তুমি বলতে কি করে দেখবে ?
আমি যে তোমাতে মিশে গেছি ।
আর তখন থেকেই তোমার সাথে আমার
ভালোবাসা হয়। সব সময় শরীর কেমন
যেনো একটা বিদ্যুতের চমক অনুভব করতাম।
খুব ভালো লাগতো। বিশেষ করে তোমার
সাথে কথা বলতে। তোমার কি আমার মত ভালো লাগতো?
তারপর হঠাতই একদিন একটা কবিতা
লিখে ফেললাম। নাম দিলাম
"কবিতা তোমার"
তোমাকে শোনালাম খুব যত্ন করে।
তুমি বললে খুব ভালো কবিতা লিখেছো ।
৩
অন্ধ জনে আলো
মৃতজনে প্রাণ
গভীর অমাবস্যার রাত
আমি একাকী চলেছি।
এক নিরুদ্দেশ যাত্রায়
নিকষ কালো রাত
কিছুই প্রায় দেখা যায় না।
আমি কিন্তু চলেছি
জানিনা কিসের খোঁজে।
আমাকে কে যেন হাটিয়ে নিয়ে যায়?
শুধু হাটি ঘন অন্ধকারে।
আমার কি হয়েছে তাও জানিনা?
হঠাৎ মনে হল গঙ্গোত্রী যমুনোত্রীর কাছে কি?
কিছুই কেন যে দেখতে পাচ্ছি না?
একথা কেন যে মনে হলো তাও জানিনা?
কিংবা মানসরোবর এর কাছাকাছি।
অন্ধকার অন্ধকার শুধুই অন্ধকার।
হেঁটে চলেছি কি সকালের অপেক্ষায়।
মানসরোবরের উপর থেকে কি সূর্য উঠে।
প্রভাতের আলোর কিরণে কি সবকিছু দেখা যাবে।
আবার হয়ে উঠবে সূর্য রশ্নির ঝলমল।
উজ্জীবন হয়ে যাবে শিশিরভেজা কোন বিহঙ্গ।
অন্ধজনে দেহ আলো মৃতজনে প্রাণ।
চোখের অন্ধকার দূর হয়ে যায়।
আমি দাঁড়িয়ে পড়ি আর তোমাকে অমনি দেখতে পাই।
No comments:
Post a Comment