১
চোখের ভাষা
স্বপ্ন- মাখানো দুটি চোখ আজো হাতছানি দিয়ে ডাকে
কতদিন গেল তবুও এখনো ভুলতে পারিনি তাকে।
সেই নিষ্পাপ অমলিন হাসি রাঙা উদ্ভাস মুখে,
ভীরুচোখে চাই নিমেষে হারাই তিরতিরে ছোঁয়া বুকে।
দু চোখের পাতা স্বপ্ন মদির কদমের সুঘ্রাণে,
আবেশে দুচোখ বুজে আসে যেন অজানা আকর্ষণে।
চোখের পাতায় আল্পনা আঁকি রামধনু সাত রঙা
দুচোখে আমার বিরহ প্লাবন অশ্রু যে বাঁধভাঙা।
চোখের ভাষায় সেদিন প্রথম জেনেছি চরম সত্য
দুটি চোখ জুড়ে কল্পনা জালে হাজারো প্রেমের তথ্য।
চোখের ভাষায় তাইতো জেনেছি বুকের ভাষাই হয়
হাজার কথার একটি কথাই চোখের তারায় কয়।
২
শিক্ষক
শিক্ষকের কোন ধর্ম নেই রঙ নেই স্কুলে
শিক্ষকেরা নিন্দা করেন না অনর্থক জাত তুলে।
আদরে সোহাগে শিশুদের যত্নে গড়ে তোলে
কখনো ভালোবেসে কখনো বা কানমলে।
মাঝখানে এসে গেল আইন "শাসন-বারণ"
মানুষ গড়তে এসে যে লাঞ্ছনা অকারণ।
চোখের সামনেই বদলে গেল পরিবেশ
ছাত্র-শিক্ষক সৌহার্দ্য পলকেই নিঃশেষ!
মেকি শিক্ষাদরদী আজ শিক্ষার কারবারি
ব্যবসা চলছে চুটিয়ে কাঙ্ক্ষিত বাড়ি গাড়ি।
শাসনে-সোহাগে, ইমনে-বেহাগে ছাত্র জীবন গড়ে
শাসনবিহীন দর্পদলনে অসুর বিরাজ করে।
নেইকো শাসন, বারণ, শুধুই মাতামাতি দাপাদাপি
অনেক যত্নে পরম রত্নে ভরে বিদ্যার ঝাঁপি।
বেপরোয়া যত ছাত্র সমাজ, শিক্ষক অসহায়
যত মাতামাতি, অশুভ বেসাতি ভবিষ্যৎ গোল্লায়।
নিরন্তর করে যাবো তবু শিক্ষার আরাধনা
দূর হোক যত অবাঞ্ছিত নোংরা আবর্জনা।
আবার উঠুক গড়ে ছাত্র- শিক্ষক প্রীতির সমন্বয়
শিক্ষা অঙ্গন প্রীতির সুবাসে ফের ভরবে সুনিশ্চয়।
৩
প্রেম
সম্পর্কের বাঁধন কী এতই পলকা !
কী করে সঞ্চরণ সম্ভব সম্পর্ক থেকে সম্পর্কান্তরে!
বসন্তে আঁচলে বেঁধে প্রেমের মুকুল,
পুরানো স্মৃতির চর্বিত চর্বণ ।
তোমার স্মৃতি বিজড়িত দিন হয়তো মধুর রোমন্থনে,
সেই স্মৃতি জাল মেঘ হয়ে ঢেকে দেয় চাঁদের আলো,
আমার ক্ষণিক সুখের উৎসব।
স্বপ্ন প্রাসাদ মুহূর্তে ধূলিসাৎ প্রবল ভূকম্পনে।
প্রেম নিছক মধুর খেলা মাত্র নয়,
নয় বিরহের বেদনায় দীর্ঘ অশ্রু পাত
প্রেম এক সর্বগ্রাসী নিষ্ঠুর ক্ষুধা ।
No comments:
Post a Comment