Friday, 9 September 2022

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছকবিতা --

দর্পণা গঙ্গোপাধ্যায়ের গুচ্ছকবিতা --

নিষিদ্ধ প্রেম

কাশফুলে সাদা বন,সাদা মেঘে উড়ু মন 
পাখিদের ডাকে সাড়া, পদ্ম দীঘি মন কাড়া,
তোমাকে পাবার রণ, এ পথেই লোকজন।

যাই ছুটে অভিসারে তুমি তুমি মন করে
 নিষিদ্ধ প্রেমের গন্ধ অভিসারী পথ বন্ধ 
লাজুক লাজুক চোখে বুকেতে কম্পন ধরে।

ছাতনা তলায় মেঘ,সামিয়ানা টানে একা,
মন জুড়ে সুখবৃষ্টি হবে আজ শুভদৃষ্টি ,
প্রথম পরশে রাঙা কপোলের ওষ্ঠরেখা।

 নবরাগে গাঁথা স্মৃতি ভুল করে রতি পতি 
রাধা কৃষ্ণ মানে হার জীবনের ছিন্নতার 
বারবার আকর্ষণে নিষিদ্ধ প্রেমের গতি।।


আষাঢ়


এআষাঢ়ে বৃষ্টিভেজা চোখে চেয়ে থাকি দূরে,
শহরের হাহাকার, চারিদিকে ব্যাভিচার,
ট্রেন ছোটে প্রতিদিন, দূর দূর বহুদূরে,


এ আষাঢ়ে এক পেট ক্ষিদে,ঘুম নেই চোখে,
গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব দানা বাঁধে, পড়ে যায় নানা ফাঁদে,
মিথ্যে স্বপ্ন বুনি মনে, ভিটে মাটি পথ রোখে।

বিষ মিশে গেছে আজ, শহরের মাটি জুড়ে।
বেকারের বেকারত্ব,নেই কোনো বোধিসত্ত্ব।
দেহ রোগ ছেড়ে আজ, মনোরোগ মন ফুঁড়ে।

খালিপেটে বেকারের প্রেম বৃষ্টি ভিজে ছোটে,
ভাসাই সুখের স্বপ্ন, মাতৃভূমি প্রেম রত্ন,
এ আষাঢ়ে বৃষ্টি নামে,প্রেয়সীর  ভুখা ঠোঁটে।


যাযাবর


 আধুনিক রীতিনীতি পালটেছে গতিবিধি,
 সকলেই ছুটে যায় বিদেশের দরজায়,
 পরবেশে সুখ পায় জন্মভূমি নিরবধি ।

মাতৃ শক্তি মহামায়া ধরেছেন রক্তকায়া 
রক্তবস্ত্র পরিহিতা যাযাবরে সমাহিতা 
ভুলে গিয়ে দেশ ধর্ম রপ্ত করি পরছায়া।

পরভাষা করে রপ্ত বিদেশে হয় আসক্ত,
 সোনালী সোনার ধান বুলবুলি কেড়ে খান,
 তবু বলি ঘরে থাকো মাথা ঠুকে হই ভক্ত।

 যাযাবরে মান বাড়ে যাযাবর মন কাড়ে,
 যাযাবরে মন তাই সকলেই হাই ফাই
সপ্তডিঙ্গা তাই ছাড়ে ঠেকে যেন স্বর্গ পাড়ে।।

সম্পর্ক 

সম্পর্কের বেড়াজালে বাধা আছে ঘরে ঘরে,
সকলেই অভিনেত্রী সময়ের অভিযাত্রী,
 ভবসাগরের রঙ্গমঞ্চে রঙ্গ শেষে ফেরে।

বিশ্বাসে ভালোবাসায় মধুচন্দ্রিমায় যায়,
 সন্তানের জন্য সুখ, সন্তানের কষ্টে দুঃখ,
 
 পিতামাতার ঋণ শোধে, থাকে নিজ বোধে,
স্বার্থপর বাবা-মাও সন্তানের কষ্টচায় ,।

ব্রিলিয়ান্ট রাজা স্বর্ণ মুকুরে নিজেকে দেখে
জিততেই হবে বিশ্ব সবাইকে করে নিঃস্ব 
আঁধারে বাধা প্রতিবাদ, সবার ভাগ্য লেখে।

 বাজারের ব্যাগ হাতে রাজা শপিংমলে যায়,
তারপর ঝোলা ভরে,রাজা কিনে ফেরে ঘরে,
 ল্যাপটপে যোগ করে রাজাদের যান প্রাণ

সব দেশ কিনে নিয়ে বসে থাকে চুপচাপ,
একাই এক রাক্ষস খেয়ে ফেলে খোক্ষস ,
খোক্ষসবোকা বেচে ফেলে চৈতন্য টুপটাপ।।

সম্পর্কের আয়নায় গিন্নির মুখ ফ্যাকাশে ,
গরীব ননদ দুষ্ট ,ধনী বৌদি হৃষ্টপুষ্ট ,
গিন্নির চোখের তারায় দুটি মুখই ভাসে ,
সম্পর্কের বেসামাল টালে, সামাল সামাল।

ঝুলনা

শ্রাবণের আকাশ ছাতিম ফুলের মাথায়,
আবছা জলছাপে আঁকা ফুলের পাপড়ি,
নীচে আবছা আলোয় অভিমানী আমি।

তোমার মনে এখন আমি না, অন্য কেউ!
কদম বনে দোলা বেঁধে এখন নতুন ঝুলনা,
বিন্দু বিন্দু জলের শিহরণে রোমাঞ্চিত তুমি।

দূরে আমি একাকী,যন্ত্রনার প্রহর কাটাই,
তুমি আরসে,সে আর তুমি কদমের ঝুলনা
ঝুলনা বড়ো জোরে জোরে দুলে ওঠে।

ডুকরে কেঁদে উঠি, ছাতিম বনে একা,
মাথায় বৃষ্টি ফোঁটা পড়ে, নেমে আসে ওষ্ঠে,
চোখের জলের ফোঁটা গাল পেরিয়ে বুকে।

অহেতুক কামনার রঙ ধূসর হয়ে গেছে,
শিহরণ স্পর্শে আকুল দেহে মনে বিরহ,
আকাশ আওয়াজ করে ভেঙে পড়ে।
চোখ বুজে অনুভবে ছুঁয়ে থাকি আমি।।

৬.
প্রহসন

আকাশের তারাগুলি মিটিমিটি চায়।
বিচারের অপেক্ষায় শহীদেরা কাঁদে।
গভীর রাতে গ্রহণ লাগে জাগা চাঁদে।
বিচার চেয়ে শহীদ যারা আজ হায়।

তাদের চোখের জলে বৃষ্টি অগ্নি হয়,
সুযোগ সন্ধানী চুপ, সুযোগ নিয়েই,
বিচারের প্রহসনে খোলে রূপ যেই।
শহীদের অশ্রু জলে বৃষ্টি ঝরা জয়।

না পাওয়ায় যন্ত্রণা,ডুবে যায় ও কে ?
লড়াই করার ক্লান্তি,ক্লান্ত সে পথিক,
জীবনের মলাটের পাতা ছিঁড়ে ফেলি ,
চোখে মুখে রঙ মেখে,সাজায় নিজেকে,
যেন মসকরা করে , বড়ো রসিক।
শত মানুষের পথে,প্রশ্ন আঁখি মেলি।

মেঘবাড়ি

আকাশের গাটি ঘেঁষে আজ করো বাড়ি,
মেঘারঙা শাড়ি ওড়ে ,মেয়ে হাসে খালি,
মেখলা বাড়ি ধোঁয়াতে ঢাকা ঢালে কালি,
সন্ধ্যা তারারা জ্বালিয়ে দীপ  বলে আড়ি।

আঁধারি আলোয় যেন  কে ঘোমটা টানে,
ছায়া পড়ে দীঘি জলে,সে আলতো খোলা,
হাঁসেরা খুনসুটিতে জলে দিচ্ছে দোলা,
মে দিবসের শ্রমিক হাতুড়ি ঘা হানে।

দুচোখের জলে আলো বিকিরণ হয়, 
সমান্তরাল পথেই, হাঁটি হাত ধরে,
ঘর গড়ি বারবার, ভাঙা হয়ে যায়।
শ্রমিকের ভিড়ে মেলে শ্রমের আশ্রয়।
হাতুড়ি ছেনি মসৃণ , থাকে শিল্পী ঘরে,
 যন্ত্র মধ্যে ভেসে ওঠে শ্রমিকেরি জয়।।

অবেলা

আকাশের কপালে টি, গোধূলির বেলা,
কৃষ্ণচূড়া রাধাচূড়া রঙে রঙে মেলা।
সে সময়ে মনে পড়ে তোমার প্রশ্বাসে,
আমার ঘুমন্ত প্রেম, জাগে ভালোবেসে।
নরম গোলাপে প্রেম সুপ্ত পাপড়িতে, 
চুম্বনের শিহরণে হৃদয় জাগাতে।
ভালো করে মুখখানা দেখিনি সেদিনে
অনুভবে ছোঁয়া এক,সে অন্য ব্যঞ্জনে।

যুদ্ধে গেলে বলে গেলে,ফের দেখা হবে,
মিথ্যে প্রতিশ্রুতি হল,বিরহই রবে।
ফিরেছ তুমি গোধূলি আজ সেই বেলা!
 রক্তে ভেজা রাঙা মাটি ডুবন্ত অবেলা।
কফিনের ভেতরের ধোঁয়া আর ধোঁয়া
শব্দ যেন শোনা যায়,গন্ধ যায় ছোঁয়া।

৯.গণপতি

ব্যবসায়  উন্নতির চাইছি আশীষ,
হয় যেন লাভ সব ক্ষণ অহর্নিশ।
মাথায় রাখো তোমার হাতের আশীষ,
সবার মাথায় ধন হোকনা বরিষ ।
সফল হোক বাসনা সবার সকল,
অক্ষয় তৃতীয়া দিন অক্ষয় করুক ,
ছন্দ ফেরাও গতিতে দাও শক্তি বল,
সবার প্রাণ আনন্দে দখল ভরুক।

গণপতি গজানন সিদ্ধিদাতা পতি,
খাতার হিসাব যেন নির্ভুল হয়গো,
তোমার আশীষ দাও আনো শান্তি পথ।
সকলের জীবনের দাও নব গতি,
সরল পথেতে যেন জীবনে পাইগো,
এসো সবার জীবনে,চড়ে জয় রথ।।

অজানা ভয়--সান্ত্বনা চ্যাটার্জি

অজানা ভয়--
সান্ত্বনা চ্যাটার্জি 

ভয়টা তাকে ঘিরে থাকে সকাল দুপুর রাত।
সে এক ছোট্ট মেয়ে,মা নেই তার বাবাও গতো,
যদিও তাকে ঘিরে রাখে দাদা দিদির হাত।
জানেনা কেউ যখনই সে একলা থাকে,
এক কালো মেঘ আসে কাছে, চোখ পাকিয়ে ধমকে তাকে,
খোবলায় তারা নরম শরীর ,নোংরা নখে খিমচে  ধরে,
ভয়ে তার গলার মাঝে
শব্দ কোনও বেডোয় না যে
সেই কালো হাত শাসন করে
ইশারাতেই  বোঝায় তাকে…যদি বলিস কিছু …
মেয়েটা তো বোঝেনা যে 
কেমন করে বলবে কাকে
সেই কালো মেঘ ঘনায় যখন
চেনা মানুষ অচেনা হয়
চোখ দুটো তার পাল্টে যে যায়
নখ গুলো তার নেকড়ের মনে হয়।।

সোমনাথ সাহার --আপনজনের পদাবলি

সোমনাথ সাহার --
আপনজনের পদাবলি

"যদি না থাকত এই জরা-ব্যাধি-মৃত্যুর প্রতাপ জীবনে,
আমিও খুঁজতাম সুখ, যা কিছু সে রমনীয় রুচিকর মনে।"
                                      ( বুদ্ধচরিতম্ , বন্দনা )

বাবা
বাবা আমার স্নিগ্ধ বাতাসের মতন, সমস্ত অনুভব দিয়ে তাকে অনুভব করলে বুঝতে পারি,
আমার ছেলেবেলার পাতায় লেখা আছে সেই সময়ের কথা,
যখন বাবা শীতল চাঁদের মতো শিশির ভেজা পথে দাঁড়িয়ে ছিল সৃষ্টির সিন্ধু বুকে নিয়ে; আমরা তখন স্তব্ধতার খোঁজে রাত্রির বুক চিরে চলে যেতাম কালপুরুষের কাছে।
বাবা আমাদের বিশ্বাস দিয়ে মাটির ঈশ্বর গড়তে শিখিয়ে ছিল।
আজ আমাদের নিবিড় সংযমে স্মৃতিটুকু বেঁচে আছে, আর বাবা মিশে আছে অনন্তের গভীরে।

মা
'মা'-কে নিয়ে বলতে যোগ্যতা লাগে!
যোগ্যতাহীন ব্যর্থতার শীতলতা দিয়ে যা বুঝেছি তা হলো-
মা কে দেখতাম বিকেল হলে থালা ভর্তি সন্ধ্যা সাজিয়ে রাখত; আর আমরা চার ভাইবোন একমুঠো আলো ভাগ করতে শিখতাম মায়ের কাছে।
মায়ের অস্থির মন দিনরাত ছোটাছুটি করতো একলব্যের তীরের মতন।
একই জনমে অনেক বার জন্মেছি আমি, তবুও আমার বুকের ভিতর রয়েগেছে অজস্র চোরা ঋণ।
এপারে যা কিছু সঞ্চয়, তা এপারেই রেখে যাবো, তোমার সাথে নিজেকে মিলিয়ে দেবো বলে।

দাদা
স্বাধীনতা আনবে বলে সেই যে কখন ঘর ছাড়া হলো স্বাধীনতা এসেগেলো দাদা এলোনা।
আমি দেখতাম দাদা প্রতিটা অপমানের পর  ফিরে আসত সাদা কাগজের বুকে।
গোলাপের রাজনীতি দাদা বোঝেনি কোনোদিন তাই তো তুচ্ছ গোলাপ মাড়িয়ে হেঁটে গেছে লজ্জা হরণ নিদ্রালোকে।
দাদা শেষে একটা চিঠিতে লিখেছিল-" ক্ষমতার দরজায় প্রতিরোধ গড়ে তোলা বারণ"।

দিদি
যতটুকু আমি জানি দিদি কে ওরা বিয়ে করে পশুর মতন কেটে খেয়েছিল।
আর বাকিটুকু মায়ের মুখে নির্জনতার ভিতর রুমাল দিয়ে ছটফটিয়ে কান্না দেখে বুঝতে পারি,
অযত্নে বেড়ে ওঠা শিউলি গাছের শরীর ভর্তি ঘায়ে  কারা যেন শান্তি পাচ্ছে।
দিদির কান্নার জলে আমি আধার হয়ে দাঁড়িয়ে ছিলাম। বুঝতে শিখেছিলাম-
ফুলের গন্ধ ফুরিয়ে গেলে বাতাসও মুখ ফিরিয়ে চলে যায়।

বোন
বোন একজনকে ভালোবেসে বলেছিল-
"তুমি দেখো মৃত জোনাকিদের পাশে আমি গোলাপ ফুটিয়ে তুলবোই।"
বোনের প্রেম ছিল নির্জন নদীর বিষণ্ণতার মতন, হরিণের চোখে মাধুর্যের মতন।
চোখের সামনে অপেক্ষা করতে করতে বোনটি আমার শ্রুতি হয়ে গেলো,
শ্রুতি হতে হতে স্তব্ধ হয়ে গেলো,
আজ হঠাৎ দেখি স্তব্ধ হতে হতে অশরীরী চুম্বন রেখা ছুঁয়ে ফেলেছে।

কুসুম
আমাদের বুকে দোয়েল নেমে আসলেই আমার ঠোঁটে ঠোঁট লাগিয়ে কুসুম আসতো।
কুসুমের ঠোঁটে অহংকার ছুঁয়ে আমি জ্যোৎস্না ধরার চেষ্টা করতাম; পারতাম না তলিয়ে যেত ভালোবাসার মতন।
রাত বেশি হলে সংক্ষেপে চাঁদ কে ডাকতাম, অন্ধকারে ঠোঁট ভেজানো কথা বলতাম।
২১ শে ফাল্গুন চাঁদ দেখতে গিয়ে হঠাৎ আমি তোমায় দেখে ফেলেছিলাম।
তার পর আমাদের কিছু কথা তোমার কাছে বন্ধক রেখে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছিলাম অপেক্ষার আলিঙ্গনে।

                                           ইতি,
                          -------// সোমনাথ সাহা //------


বাইশে শ্রাবণ--শংকর ঘোষ

বাইশে শ্রাবণ--
শংকর ঘোষ

বাইশে শ্রাবণ কবি তোমায় করি যে আমরা স্মরণ,
ছবিতে ফুল চন্দন মালা দিয়ে করি তোমায় বরণ।
দুঃখের এই দিনেতে খুশির জোয়ারে আমরা ভাসি,
তাইতো আমরা জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে ছুটে আসি।
ছড়া কবিতা গান নৃত্যে আমরা এদিন সবাই মাতি,
আমাদের মাথার 'পরে রয়েছে তোমার স্নেহের ছাতি।
হৃদয়ে বড় বেদনা পাই কবি তোমায় দেখিনি বলে,
ব্রিটিশের অত‍্যাচার দেখে তোমার কলম যেত চলে।
তোমার শেষকৃত‍্যতে জোড়াসাঁকোয় লোকের ঢল নামে,
দেশবাসী অশ্রুজলে শ্রদ্ধা জানায় নিজ নিজ ধামে।
আকাশবাণীতে কান রাখলে তোমার কথা মনে পড়ে,
" আকাশবাণী " নামে তোমারই স্মৃতিধ্বজা আকাশে ওড়ে।
রামমোহন রায়কে "ভারতপথিক" বলেছিলে তুমি,
বিশ্বের মানুষ আজো জানায় তোমার পাদপদ্মে চুমি।
আজও বাঙালিরা রাখী পরায় ভাই বোনেদের হাতে,
তুমি রাখী পরালে হিন্দু -মুসলমানএক থাকে যাতে।
চিত্তরঞ্জন দাশকে "দেশবন্ধু" আখ্যা তুমিই দাও,
প্রয়াণ দিবসে কবি আমার হৃদয়ের শ্রদ্ধা নাও।
আজ শান্তিনিকেতনে গেলেই প্রাণে লাগে যে বড় ব‍্যথা,
তোমার নোবেল নেইকো সেথায় কী করে বলি একথা?
শান্তিনিকেতন গেলে পরেও মেলে নাকো শান্তি আজ,
সেখানেও অশান্তির কাদা ছিটাতে পায়না লোকে লাজ।
দুদেশের জাতীয় সঙ্গীত লেখা তোমার অবদান,
আমাদের তরে লিখেছো ছড়া কবিতা নাটক ও গান।
তোমার গানকে পাথেয় করে নিয়েছে অনেকেই আজ,
ট্রেনে ও বাসে গান গেয়ে আয় করাই যে তাদের কাজ।
বাইশে শ্রাবণ কবি তোমার চরণে জানাই প্রণাম,
বিশ্ববাসী কোনোদিন বিস্মৃত হবেনা তোমারই নাম।
১৪২৭ থেকে কাটছে যে জীবন সঙ্গে নিয়ে ত্রাস,
কখন যেন জীবনটা নেয় কেড়ে করোনা ভাইরাস।
করোনা কমে গেলেও জীবন থেকে যায়নি চলে ভয়,
মানব সমাজে দিনদিন বেড়েই চলেছে অবক্ষয়।

স্মৃতির সাঁড়াশী--তূয়া নূর

স্মৃতির সাঁড়াশী--
তূয়া নূর

ফেলে আসা অনেক কথাই আমার মনে পড়ে না,
ছানি পড়া চোখের মতো ঝাপসা হয়ে গেছে। 
টুকরো মেঘের মতো ভাসতে ভাসতে উধাও হয়ে গেছে।
স্মৃতির বুক পকেট হাতড়ে হাতড়ে
খুচরো পয়সা, সিকি-আধুলি কোন কিছুর নাগাল পাই না। 

বার বার বলি, আমার পিছু এসো না অনর্থক!
স্মৃতির খাতায় পামরী পোকার বাস,
আর কিছু নেই সেখানে।
হাত নেড়ে কতোবার বলি, থাক না এসব কথা —অন্যকিছু নিয়ে হোক আলোচনা। 


শৈশবের খেলনার মতো ভুলে যাওয়া কিশোর বয়সের ক্ষোভ,
শিশির কণার মতো রোদে পুড়ে গেছে রাগ। 
কতো কাল দেখা হয় নি সকালের সূর্য ওঠা,
কতোদিন নেয়া হয় নি তালুতে ডলে কচি দূর্বাঘাসের ঘ্রাণ। 

হাত নেড়ে বার বার বলি, 
ওসব আমার কিছুই মনে পড়ে না!
কিছুই মনে পড়ে না! তবু পিছু লেগে থাকে,
অবাধ্যের মতো স্মৃতির সাঁড়াশী চেপে ধরে শ্বাসনালী।

মেরা মহান দেশ--অরুণ কুমার দাঁ

মেরা মহান দেশ--
অরুণ কুমার দাঁ

উচ্ছিষ্টে মন
বেকার যৌবন !

হাততালি দেয় সুখে
পেট পুড়ে যাক ভূখে !

অল্পে যখন খুশি
হুলো-মেনি-পুশি ।

ছড়িয়ে দাও ভাত
খুশিতে খাক কাক  ।

সবাই মিলে ভাগে
কে কতটা আগে  ।

সবাই থাকো চুপ
পুড়তে থাকুক ধূপ !

আমি তো আছি বেশ
মেরা মহান দেশ ।


দুর্গাপুর, পশ্চিম বর্ধমান
পশ্চিমবঙ্গ

প্রেম বনাম বিবাহ--অসিত কুমার পাল

প্রেম বনাম বিবাহ--অসিত কুমার পাল
****************

প্রেম এক আশ্চর্য মাধুর্যরস ।
সে যতটা না বাস্তব, তার চেয়ে
অনেক বেশি কল্পনাপ্রসূত ।
বিবাহিত জীবনে প্রেম থাকে না ।

প্রেম এক অনাবিষ্কৃত চারণভূমি।
প্রাত্যহিকতায় প্রেমের জন্ম হয় না 
অধিকারের গন্ডীর মধ্যে আর যাই হোক,
প্রেম বাস করে না , করতে পারে না ।

প্রেমের গায়ে সামাজিক সীলমোহর
থাকে না , সম্পর্ক নির্ধারনের 
দেওয়াল নেই । প্রেমের পরিণতি
বিবাহ হলে প্রেম বিলুপ্ত হয় ।

প্রেম হলেই ঘর বাঁধতে হবে- 
এমন ভাবনায় যুক্তি নেই ।
 রাধা কৃষ্ণের বিবাহ হলে তাদের 
জীবনে প্রেমের পরিসমাপ্তি ঘট

অসিত কুমার পালের

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা --

দেবব্রত রায়ের তিনটি কবিতা -- ১ পাখিদের গণসংগীত সূর্যের দিকে পিঠ পালটানোর মুহূর্তে  দুষ্টু আত্মারা তোমাকে ছেড়ে চলে যায়  কারণ,ওই ...