কৌস্তুভ দে সরকার
দুম করে চরিত্রহীন কেউ বলেনা। অভিযোগ প্রচার হলে চাগার দিয়ে ওঠে ঘটনা পরম্পরা। কবি তার বিরুদ্ধে কোনো টু শব্দ করতে পারে না। তিনি জানেন, বোঝেন সব সত্য কালচার। তিনিই শুধু জানেন বা বোঝেন তিনি কি, তাতো নয়; কে বা কারা কেন তার বিরুদ্ধে কিসব রটায়, তিনি তার খোঁজ করতে যাননা কখনো। কেননা, তার চোখের আগুনে দূষিত গঙ্গায় কত সুযোগসন্ধানী স্বপ্নের লাশ বইয়ে দিয়েছেন, চুপচাপ ভাবেন। যীশু বা সক্রেটিসের মতো তাই তাকে বলতে শোনা যায় না, এরা জানে না এরা কিচ্ছু জানে না। হে ঈশ্বর এদের ক্ষমা কোরো !
কবির কলমে আর কোনো কালি নেই, সব তার চরিত্রে লেপন হয়ে গ্যাছে। সুখের সাজানো ক্যাম্পাসে সযত্নে লুকোনো লুকোচুরি ধরা পড়ে গ্যাছে । যাবতীয় লাঞ্ছনা, অপমানের কোনো জবাব নেই তাই আর। কারা যেন মুতে দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে তার সমস্ত ভুলে ভরা লেখামো আবর্জনা । ক্ষমতার মোড়কে ঢাকা সমস্ত প্রকাশিত সহজলভ্যতা।
যে কোনো কিছুর জন্যই একবার অপবিত্র হলে তাকে ফেলে দিতেই হয়, সেটাই স্বাভাবিক। মানুষের ভিড়ে যার পরিচয় শিক্ষিত বলে, তার ভেতরের কদর্যতা সম্মুখে চলে এলে কেউ কি আর সম্মান জানায়? কবি তো অনেক পরে, সর্বাগ্রে পরিচয় মনুষ্যত্বে যার, তার ভেতরের পাপের পাহাড় একবার প্রকাশিত হয়ে গেলে আর কোনো শুভেচ্ছার পর্যটন সেদিকে সম্ভব হয়ে ওঠে না।
বন্ধু তো আনন্দ ফূর্তির সহচর। বন্ধুর বিপদে যারা আলগোছে থাকে, তারাও ভেতরে সজাগ, পাছে কোনো দোষ ধরা পড়ে। বন্ধুকে চিনতে না পারার অনেক কারণ অনেকেরই গোপন থেকে যায়। যারা পাশে থাকে তারাও সর্বনাশে থাকে। লেখক পাঠক সমাজের অনেকেই সেসব হয়তো জানেন। জানলেও জানাবেন না এমন অনেক কিছুই ছাই চাপা থাকে। যতদিন পবিত্র আগুন বলে কোনোকিছু জ্বলে উঠছে না; যতদিন রাতজাগা কবিতা নামের কিছু চোখ কবি নামের কাঙালপনা নিয়ে দেওয়া-নেওয়ার বন্দরে ভিড় সরাচ্ছে না। কারণ, টাইটানিক ডুবে যাবার সিনেমার মধ্যেও রোজ আর জ্যাকের সেই মিলন দৃশ্যের ঘটনায় যথেষ্ট উত্তেজনা। সেভাবেই ডুবে গেছেন কবি। অতলান্ত জলের নীচে, মধ্যরাতে এখনো মুখরোচক তাই তার বিকৃত রুচির সিনেমা।
No comments:
Post a Comment